মাহদী আমিন
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী
Advertisement
বাসস
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
মাহদী আমিন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফরে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে চার কর্মদিবসের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে দেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনাগুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন এবং তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সমুন্নত রেখেছেন।’
রোববার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংশ্লিষ্ট আটটি ও ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি। এ ছাড়া তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।’
তিনি বলেন, ‘এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল এই সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে দেশকে এক উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে গেছেন।’
মাহদী বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণটি ছিল এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তরুণ ও নারীদের মতো সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য সরকারের গৃহীত নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি এগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে সরকারের রূপকল্পও উপস্থাপন করেন। সাধারণ বিতর্কে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু মোকাবিলা, ন্যায়সঙ্গত উত্তরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীসেবা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বা অংশগ্রহণ করেন।’
তিনি বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি কেবল বাংলাদেশের কথা বলেননি, তিনি বিশ্বশান্তির কথাও বলেছেন। ফিলিস্তিনে আমরা কীভাবে শান্তি দেখতে চাই, সে বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় সভাকক্ষ থেকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের বেরিয়ে আসার (ওয়াকআউট) মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে সমর্থনেরও আশ্বাস পেয়েছে।
তারা সবাই বাংলাদেশের পাশে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ অনেক বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আমরা দেখেছি বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রধানমন্ত্রীকে কতটা উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, সফরকালে উপস্থাপিত নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাগুলোকে এখন বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার কাজ করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কাজ করব।’
