Logo
Logo
×
   

রাজনীতি

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় যাদের নাম

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় যাদের নাম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান ‘রাকিব-নাছির’ কমিটির বিদায় সাক্ষাতের পর সংগঠনটির নতুন কমিটি নিয়ে জোরাল আলোচনা শুরু হয়েছে।সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি চলতি আগস্টেই ঘোষণা হতে পারে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতার ‘বিদায়ী’ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে ‘রাকিব-নাছির’ কমিটির বিদায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন।

বিদায়ী সাক্ষাতের পর ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আসন্ন নতুন কমিটিকে সাদরে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি নিজের দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধও করেন।

এদিকে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে আমার কাছে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। যদি সেরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আসবে।’

‘রাকিব-নাছির’ কমিটির বিদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে দলের হাইকমান্ড তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। তাদের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারব না। আর যদি চূড়ান্ত পর্যায়ের কিছু হয়, নতুন কিছু হয়, তাহলে সেটা তো নিঃসন্দেহে আমরা প্রেস রিলিজ আকারে আপনাদের বলে দেব। এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’

সভাপতি পদে আলোচনায় যারা

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংগঠনের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সম্পাদক রিয়াদ রহমান, এইচ এম আবু জাফর, এজাজুল কবির রুয়েল, খোরশেদ আলম সোহেল ও মঞ্জুরুল আলম রিয়াদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানুর রহমান, শরিফ প্রধান শুভ ও ফারুক হোসেনের নামও সভাপতি পদে সম্ভাব্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে যারা

সাধারণ সম্পাদক পদে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারিক ও সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, মাসুদুর রহমান মাসুদ, তারেক হাসান মামুন, নাছির উদ্দীন শাওন ও জাহিদ হাসান শাকিলের নামও আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়া সহ-সভাপতি জিয়াউদ্দিন বাসেত এবং সালেহ মোহাম্মদ আদনানের নামও শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছে।

নেতৃত্বে গুরুত্ব পাচ্ছে আন্দোলন ও সাংগঠনিক দক্ষতা

ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, ত্যাগ, দলের প্রতি আনুগত্য এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থী, বিতর্কমুক্ত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

পদপ্রত্যাশীদের কয়েকজনও জানিয়েছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সক্রিয় ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যাদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রিয়াদ রহমান বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধ কোনো সমাধান নয়। ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই ছাত্রসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হতে হবে নৈতিক, শিক্ষার্থীবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান বলেন, ‘সংগঠনের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত আমার একটি নিবিড় যোগাযোগ ও সম্পর্ক রয়েছে। আমার সেই সহযোদ্ধা-সহকর্মীরা আমাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান। আমি সংগঠনের তৃণমূলে যারা রয়েছে এবং দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক অভিভাবক, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রাখি।’

অন্যদিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব ও নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সারা দেশের ছাত্রদল অপেক্ষা করছে। তারা আশা করছেন, সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি উপহার দেবেন।’

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি আগস্টেই নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তবে ঘোষণার সময় আরও পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নতুন কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এরই মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .