Logo
Logo
×
   

দেশপ্রেমে লেখা সাফল্যের মহাকাব্য

‘তোমার দিকে চাহিয়া আমাদের বিস্ময়ের সীমা নাই’

Icon

আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

‘তোমার দিকে চাহিয়া আমাদের বিস্ময়ের সীমা নাই’

বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল ইসলাম। ফাইল ছবি

কীর্তিমানের মৃত্যু নেই, তারা বেঁচে থাকেন তাদের কর্মের মধ্য দিয়ে। মূলত ইংরেজ কবি ফিলিপ জেসমিন বেইলির মহাকাব্য Festus-এর অমর পঙ্ক্তি We live in deed, not years, in thoughts, not breaths থেকেই এর ভাব নেওয়া।-কথাগুলো পুরোপুরি প্রযোজ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল ইসলামের বেলায়।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবনপণ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। তিনি যদি আর কিছু নাও করতেন, তবু তার নাম চিরকাল উজ্জ্বল হয়েই থাকত। কিন্তু তিনি থামলেন না, নিজেকে ক্রমাগত অতিক্রম করার পথে পা বাড়ালেন। দেশের মানুষের বেকারত্ব, অশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের অভাব তাকে টেনে নিয়ে গেল দেশ গড়ার বৃহত্তম আঙিনায়। তিনি একে একে গড়ে তুলেছেন যমুনা শিল্পগোষ্ঠীর মতো বিশাল শিল্পসাম্রাজ্য। এতে শিল্পায়ন যেমন হলো, অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হলো; তেমনই কর্মসংস্থান হলো হাজার হাজার মানুষের।

সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার অভাবও তাকে ক্ষুব্ধ করেছিল। তার জীবনের আপ্তবাক্য ছিল কোনো অবস্থাতেই মাথা নত না করা। সেই ব্রত থেকে গড়ে তুললেন যুগান্তর ও যমুনা টিভির মতো সত্যনিষ্ঠ ও সাহসী গণমাধ্যম। তার এ দুই মানসসন্তান প্রতিষ্ঠা যে বৃথা যায়নি, তিনি যে সঠিক পথেই দীক্ষা দিয়ে গেছেন, তার প্রমাণ হলো ২০২৪-এর জুলাই জাগরণ। এই জাগরণে তার সৃষ্ট গণমাধ্যম দুটি বিশেষ করে যমুনা টিভি যে দুঃসাহসী ভূমিকা পালন করেছে, তা এককথায় অসাধারণ।

সকল বিবেচনায়ই তিনি অনন্য, অনশ্বর তার কীর্তি।

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক জন্মবার্ষিকীর মানপত্র লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি মাত্র একটি বাক্য দিয়ে মানপত্র লিখলেন, ‘কবিগুরু তোমার দিকে চাহিয়া আমাদের বিস্ময়ের সীমা নাই।’-সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মানপত্র ছিল সেটি। রবীন্দ্রনাথ দারুণভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন। আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের প্রস্থান দিবসে আমারও শুধু একটি কথাই বলতে ইচ্ছে করছে, ‘হে স্বপ্নসারথি তোমার দিকে চাহিয়া আমাদের বিস্ময়ের সীমা নাই।’-কী করে এতকিছু করে গেছেন আপনি! আশ্চর্য হই, হতবাক হই।

জাতির জ্ঞানীগুণী তথা শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান জানানোর জন্য রাষ্ট্র বিভিন্নজনকে স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক দিয়ে থাকে। অবাক করার বিষয়-কবি, লেখক, সাংবাদিক, ডাক্তার, সমাজসেবকসহ নানাজনকে এই সম্মানে ভূষিত করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো শিল্পোদ্যোক্তাকে কখনোই এই কাতারে যুক্ত করা হয়নি। কেন হয়নি-? যারা কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করেছেন, হাজারো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা দূরীকরণে রেখেছেন বিশাল ভূমিকা, তাদের মূল্যায়ন আমরা কবে করতে শিখব?

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম তো আরও বিস্ময় সৃষ্টি করে গেছেন। তার কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে একটা টাকাও ঋণ খেলাপি নেই। একটি কানাকড়িও তিনি বিদেশে পাচার করেননি-ভাবা যায়! যা করেছেন, তা দেশেই করেছেন। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য করেছেন। দেশের মানুষের জন্য করেছেন।

সার্বিক অর্থেই এই মহান মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে বলা যায়, আপনার কীর্তির চেয়ে আপনি যে মহৎ। আপনার তুলনা শুধু আপনি। যে মৃত্যুহীন প্রাণ আপনি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন, মরণের মাধ্যমে তাই আপনি আপনার দেশ ও জাতির জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। আমরা কখনোই আপনাকে ভুলব না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ছিলেন যমুনা গ্রুপ, যুগান্তর, যমুনা টিভির জন্য আলোর দিশারি, আবেগ ও অনুপ্রেরণার উৎস। আমরা তার প্রদর্শিত পথেরই যাত্রী। তার দেখানো পথে এই যাত্রা যদি আমরা অব্যাহত রাখতে পারি, আরও বেগবান ও অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারি; তাহলে সেটাই হবে তার স্মৃতির প্রতি আমাদের যথার্থ শ্রদ্ধা জানানো।

আমি পরম করুণাময়ের কাছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্মবীরের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

জন্ম : ৩ মে ১৯৪৭

মৃত্যু : ১৩ জুলাই ২০২০

* মুক্তিযোদ্ধা থেকে শিল্পের মহানায়ক

* ১৯৭৪ সালে যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা

* ৪২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা

* অর্ধলক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান

* ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ দর্শনের পথিকৃৎ

* যমুনা ফিউচার পার্কের রূপকার

* ক্লিন ইমেজ ও আপসহীন উদ্যোক্তা

সম্পাদক, দৈনিক যুগান্তর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .