|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আগামী ৯ এপ্রিল (মতান্তরে ১০ এপ্রিল) বাংলা, বিহার ও ওড়িশার নবাব আলীবর্দী খানের (১৬৭৬-১৭৫৬) মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি প্রথম জীবনে মির্জা মুহম্মদ আলী নামে পরিচিত ছিলেন। সুজাউদ্দীনের শ্বশুর মুর্শিদকুলী জাফর খানের মৃত্যুর পর মির্জা মুহম্মদ আলী সুজাউদ্দীনকে বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করেন। মুর্শিদকুলীর পুত্রসন্তান না থাকায় সুজাউদ্দীনই ছিলেন বাংলার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী। কিন্তু জামাতা ও শ্বশুরের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল না। ১৭২৭ সালে মুর্শিদকুলীর মৃত্যুর পর সুজাউদ্দীন মির্জা মুহম্মদ আলীর চেষ্টায় বাংলার মসনদে আরোহণে সমর্থ হন। পরামর্শ এবং অকৃত্রিম সেবার জন্য সুজাউদ্দীন মির্জা মুহম্মদ আলীর পরিবারকে নানাভাবে পুরস্কৃত করেন। তিনি ১৭২৮ সালে মির্জা মুহম্মদ আলীকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগদান করেন এবং তাকে ‘আলীবর্দী’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
কর্মদক্ষতার কারণে আলীবর্দী খান সুজাউদ্দীনের সুনজরে আসেন এবং নিজের অবস্থান অধিকতর মর্যাদাসম্পন্ন ও দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৭৩৯ সালে সুজাউদ্দীনের মৃত্যু হলে তার পুত্র সরফরাজ বাংলার মসনদে আসীন হন। কিন্তু মাত্র এক বছর এক মাসের মধ্যেই তার সরকারের পতন হয়। যেসব সরকারি কর্মকর্তা সুজাউদ্দীনের আমলে তার অনুগত ছিল, তারাই সরফরাজের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সে সময় দিল্লি সাম্রাজ্যের ওপর বৈদেশিক আক্রমণ এসব ক্ষমতালিপ্সু কর্মকর্তার উদ্দেশ্য হাসিলের সহায়ক হয়। দিল্লির বাদশাহ মুহম্মদ শাহ ইরানের শাসক নাদির শাহের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েন। তখন অত্যন্ত সতর্কতা ও পারদর্শিতার সঙ্গে পরিকল্পনা করে আলীবর্দী খান বাংলার সুবাহদারি লাভের চেষ্টা করেন। ১৭৪০ সালে দিল্লির রাজদরবারে অবস্থানরত তার এক বন্ধুর সহযোগিতায় তিনি দিল্লির বাদশাহ মুহম্মদ শাহের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশা শাসনের সনদ লাভ করেন। ১৭৪০ সালে সংঘটিত গিরিয়ার যুদ্ধে তিনি সরফরাজকে পরাজিত করেন। সে বছর এপ্রিলের শেষদিকে তিনি বাংলার নওয়াব হিসাবে বাদশাহ মুহম্মদ শাহের স্বীকৃতি লাভ করেন। আলীবর্দী খান অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার মৃত্যু আসন্ন ভেবে তিনি তার দৌহিত্র ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী সিরাজউদ্দৌলাকে কাছে ডেকে দেশ শাসন সম্পর্কিত মূল্যবান উপদেশ দেন। আলীবর্দী খান ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল ৮০ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। দক্ষ ও দূরদর্শী শাসক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি।
