|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আজ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ মুন্সী আবদুর রউফের মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল (মতান্তরে ২০ এপ্রিল) পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে তিনি শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাত বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়, মুন্সি আবদুর রউফ তাদের অন্যতম। তিনি ১৯৪৩ সালের ৮ মে ফরিদপুর জেলার মধুখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৩ সালের ৮ মে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগদান করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে তিনি চট্টগ্রামে ১১ উইং-এ (বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন ১১ বিজিবি, বান্দরবান) চাকরিরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি-মহালছড়ি জলপথে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এ জলপথ দিয়ে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর চলাচল প্রতিরোধের দায়িত্ব পড়ে তার কোম্পানির ওপর। কোম্পানিটি বুড়িঘাট এলাকার চেঙ্গিখালের দুই পাড়ে অবস্থান নিয়ে গড়ে তোলে প্রতিরক্ষা ঘাঁটি।
৮ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর দুই কোম্পানি সৈন্য মর্টার, মেশিনগান ও রাইফেল নিয়ে বুড়িঘাটের মুক্তিবাহিনীর নতুন প্রতিরক্ষা ঘাঁটি বিধ্বস্ত করতে সাতটি স্পিডবোট এবং দুটি লঞ্চ নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা ঘাঁটির কাছাকাছি পৌঁছেই পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ শুরু করে। তারা স্পিডবোট থেকে মেশিনগানের গুলি এবং লঞ্চ দুটি থেকে তিন ইঞ্চি মর্টারের শেল নিক্ষেপ করছিল মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে। পাকিস্তানি বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল রাঙামাটি-মহালছড়ির জলপথ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের পিছু হটিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা।
অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারাও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিখায় অবস্থান নিয়ে নেন। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাগুলির তীব্রতায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে যায় এবং তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে ফেলে। যুদ্ধের এ পর্যায়ে আবদুর রউফ বুঝতে পারেন, এভাবে চলতে থাকলে ঘাঁটির সবাইকেই পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে মৃত্যুবরণ করতে হবে। তিনি তখন কৌশলগত কারণে পশ্চাদপসরণের সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্ত সৈন্যদের জানানো হলে সৈন্যরা পিছু হটতে শুরু করে। এদিকে পাকিস্তানি বাহিনী তখন খুব কাছে চলে আসে। ফলে সবাই একযোগে পিছু হটতে থাকলে সবাইকেই মৃত্যুবরণ করতে হতে পারে ভেবে আবদুর রউফ আর পিছু হটেননি। সহযোদ্ধাদের পিছু হটার সুযোগ করে দিতে নিজে পরিখায় দাঁড়িয়ে অনবরত গুলি করতে থাকেন পাকিস্তানি স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে। তিনি তাদের সাতটি স্পিডবোট একে একে ডুবিয়ে দিলে তারা তাদের দুটি লঞ্চ নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। লঞ্চ দুটি পিছু হটে রউফের মেশিনগানের গুলির আওতার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়। পাকিস্তানি বাহিনী এরপর লঞ্চ থেকে মর্টারের গোলাবর্ষণ শুরু করে। হঠাৎ একটি মর্টারের গোলা তার বাঙ্কারে এসে পড়ে এবং তিনি শহীদ হন।
