|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত ১ এপ্রিল ছিল লোকসাহিত্যিক ও কবি আবদুল হাই মাশরেকীর জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯০৯ সালের ১ এপ্রিল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাঁকনহাটি গ্রামে তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ওসমান গণি সরকার জমিদারবিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আবদুল হাই মাশরেকীর মাতার নাম রহিমা খাতুন। শিক্ষাজীবনের প্রথমদিকে মাশরেকী ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন; কিন্তু পরবর্তীকালে কলকাতায় পাড়ি জমান। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার প্রথম গ্রন্থ ‘চোর’ (গল্প) প্রকাশিত হয়। কলকাতায় থাকাকালীন তিনি এইচএমভি প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক গান লেখার কাজ করেন। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হলে তিনি পূর্ববঙ্গে চলে আসেন এবং পরবর্তীকালে ঢাকার এইচএমভির হয়ে চুক্তিভিত্তিক গান লিখলেও এখানে শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। তার কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কাটে শিক্ষকতা এবং দৈনিক বাংলা পত্রিকার সহসম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে।
গত শতকের ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে আবদুল হাই মাশরেকী সাহিত্যজগতে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন। মূলত গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনগাথাই তার লেখায় স্থান পেয়েছিল। তিনি অনেক পালাগান, দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও গণসংগীত রচনা করেছেন। তার লেখা ছিল বৈষম্য ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে।
১৯৭৬ সালে কর্মজীবন থেকে অবসরগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের ম্যাগাজিন ‘কৃষিকথার’ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। কবি আবদুল হাই মাশরেকী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার লেখা ‘ওরে আমার ঝিলাম নদীর পানি’ ১৯৬৭-৬৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের রাষ্ট্রীয় ‘তঘমা-ই ইমতিয়াজ’ পুরস্কার লাভ করে; তবে তিনি সেই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ১৯৪১ সালে তার লেখা ‘ফান্দে পরিয়া বগা কান্দে রে’ গানটিতে কণ্ঠ দেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ। আবদুল হাই মাশরেকীর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে : রাখাল বন্ধু, জরিনা সুন্দরী, কিছু রেখে যেতে চাই, হে আমার দেশ, কুলসুম, বাউল মনের নকশা, মাঠের কবিতা মাঠের গান, দুখু মিয়ার জারি, মানুষ ও লাশ, নদী ভাঙে, ভাটিয়ালী, অভিশপ্তের বাণী, দেশ দেশ নন্দিতা, কাল নিরবধি, ডাল ধরিয়া নুয়াইয়া কন্যা, হযরত আবু বকর, স্বদেশের প্রতি হযরত মোহাম্মদ, নতুন গাঁয়ের কাহিনী, সাঁকো, হুতুম ভুতুম রাত্রি, আকাশ কেন নীল। তিনি ১৯৮৮ সালের ৪ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন।
