|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আগামীকাল ১৪ এপ্রিল শাস্ত্রীয় সংগীতজগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ওস্তাদ আলী আকবর খাঁর জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ এবং মাতা মদিনা বেগম। সংগীতে অসাধারণ সৃষ্টি ওস্তাদ আলী আকবর খাঁকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সংগীতে অমর করে রাখবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তার ভূমিকার জন্য তিনি বাঙালি জাতির কাছে বিশেষভাবে সম্মানিত।
পিতার কাছেই তার সংগীত শিক্ষার হাতেখড়ি। তার সংগীতে হাতেখড়ি হয় তিন বছর বয়সে। কণ্ঠসংগীতের শিক্ষা শুরু হয় বাবা আলাউদ্দিন খাঁর কাছে এবং তবলা শিখতে শুরু করেন তার চাচা ফকির আফতাবউদ্দিনের কাছে। তিনি বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্র ও গায়কীর শিক্ষা নেন। তবে তিনি ধীরে ধীরে সরোদে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। এরপর প্রায় ২০ বছর তার শিক্ষা ও চর্চা অব্যাহত থাকে।
বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ লাভের পর ১৯৩৬ সালে ১৩ বছর বয়সে আলী আকবর খাঁ এলাহাবাদে সর্বপ্রথম এক সংগীত সম্মেলনে সংগীত পরিবেশন করেন। এর তিন বছর পর ১৯৩৯ সালের ডিসেম্বরে সেই একই সম্মেলনে তিনি পণ্ডিত রবিশংকরকে সরোদে সংগত করেন; এটাই ছিল তাদের প্রথম যুগল পরিবেশনা। ১৯৩৮ সালে বম্বে অল ইন্ডিয়া রেডিওর সঙ্গে তিনি প্রথম কাজ করেন। ১৯৪০ সাল থেকে তিনি লখনৌতে প্রতিমাসে যন্ত্রসংগীত পরিবেশন শুরু করেন। একপর্যায়ে পেশাদার সংগীতজ্ঞ হওয়ার উদ্দেশ্যে রবিশংকর বম্বে চলে যান; আলী আকবর কিছুদিন লখনৌর অল ইন্ডিয়া রেডিওতে সর্বকনিষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসাবে কাজ শুরু করেন; রেডিওর জন্য অর্কেস্ট্রা রচনার দায়িত্বও তার ওপরই ছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামী জনগণের সাহায্যার্থে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ারে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। এ আয়োজনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের অন্যতম একজন ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ। এ কনসার্টের প্রাপ্ত অর্থ বাংলাদেশের শরণার্থীদের প্রদানের জন্য ইউনিসেফের শরণার্থী ফান্ডে দান করা হয়। তিনি ২০০৯ সালের ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রানসিসকোতে মারা যান।
