Logo
Logo
×
   

খেলা

ডুলি থেকে বিশ্বকাপ: মার্কিন কূটনীতিক অ্যালবার্টের ফুটবল গল্প

জ্যোতির্ময় মন্ডল

জ্যোতির্ময় মন্ডল

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

ডুলি থেকে বিশ্বকাপ: মার্কিন কূটনীতিক অ্যালবার্টের ফুটবল গল্প

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে অ্যালবার্ট (বাম থেকে তৃতীয়)/যুগান্তর

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। ৩২ বছর পর ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ পেয়ে মার্কিনদের উচ্ছ্বাস স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি। সেই উৎসব ভাগ করে নিতে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস গুলশানের ইএমকে সেন্টারে আয়োজন করে স্বাগতিকদের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার বিশেষ অনুষ্ঠান। শনিবার লস অ্যাঞ্জেলসের সোফি স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারায় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের বিরতিতে ফুটবল ও বাংলাদেশ দল নিয়ে প্রাণখোলা আড্ডায় মেতে ওঠেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কনসুল জেনারেল অ্যালবার্ট সেয়া।

ফুটবলের প্রতি অ্যালবার্টের ভালোবাসা পারিবারিক উত্তরাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা আমেরিকায় ফুটবল স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। মা চিলির, তার পরিবারের দুজন চিলি জাতীয় দলেও খেলেছেন। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল আমাদের পরিবারের বড় অংশ ছিল। সেখান থেকেই খেলাটার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে।’

বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনাও মুগ্ধ করেছে এই মার্কিন কূটনীতিককে। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় নিউইয়র্কে চিলি-আর্জেন্টিনা ম্যাচে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি সমর্থকদের দেখে অবাক হয়েছিলেন তিনি। তার ভাষায়, ‘নিজের দেশ বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশের মানুষের ফুটবল ভালোবাসা সত্যিই অসাধারণ।’

তবে এই আড্ডার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় ছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান কোচ থমাস ডুলিকে নিয়ে। ডুলির খেলোয়াড়ি জীবনের সাক্ষী স্বয়ং অ্যালবার্ট। ১৯৯২ সালে ইউএসএ কাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ডুলির অভিষেক ম্যাচ মাঠে বসে দেখেছিলেন তিনি। ৩৪ বছর আগের সেই স্মৃতি এখনও স্পষ্ট। ‘সেদিন বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা ৩-১ গোলে জিতেছিলাম। ডুলি দারুণ খেলেছিল, দ্বিতীয় গোলে তার অ্যাসিস্ট ছিল।’ বলেন তিনি।

নিজের বিশ্বকাপ স্মৃতিও ভাগাভাগি করেন অ্যালবার্ট/যুগান্তর

১৯৯৪ ও ১৯৯৮—দুটি বিশ্বকাপেই যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ডুলি, ১৯৯৮-এ ছিলেন অধিনায়কও। আমেরিকান ফুটবল হল অব ফেমে থাকা এই কিংবদন্তি সম্পর্কে অ্যালবার্ট বলেন, ‘তিনি তার সময়ে আমেরিকার সেরা ফুটবলারদের একজন।’ 

কোচ হিসেবেও ডুলির সম্ভাবনায় আশাবাদী তিনি। ‘ডুলির অধীনে বাংলাদেশ সম্প্রতি সান মারিনোকে হারিয়েছে—ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়। তার অধীনে বাংলাদেশের ফুটবল আরও এগিয়ে যাবে’ – যোগ করেন তিনি।

বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও বলেন অ্যালবার্ট। ১৯৯৪ সালে একা আয়োজন করলেও এবার কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে ১০৪টি ম্যাচ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, যার ৭৮টিই হবে মার্কিন মাটিতে। তিন দশকে দেশটির ফুটবল সংস্কৃতি বদলেছে বলে মনে করেন তিনি। ‘মেজর লিগ সকারের মাধ্যমে ফুটবল এখন অনেক জনপ্রিয়, যদিও বাস্কেটবল এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি’ — বলেন তিনি।

১৯৯৪ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে এবং ১৯৯৮-তে মাঠে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করেছেন তিনি। সেই ম্যাচের টিকিট আজও যত্নে সংরক্ষণ করেছেন। এবারও মাঠে যাবেন– ১৯ জুন সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ দেখে ২৬ জুন ঢাকায় ফিরে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচও উপভোগ করবেন।

শিরোপার দৌড়ে নিজের দেশকে ভালো অবস্থানে রাখলেও বিশ্বকাপ জয়ের ফেভারিট হিসেবে স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের নাম বলেন এই মার্কিন কূটনীতিক।

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম