মামুনুল হকের বিশ্বকাপ ভাবনা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক, এটা গোপন কিছু নয়। কিন্তু বিশ্বকাপ বিশ্লেষণ করতে গেলে আবেগ এক পাশে সরিয়ে রাখতে হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী চার দল হলো স্পেন, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও ফ্রান্স। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসিময় ম্যাচ জিতে গ্রুপসেরা হয় এক ম্যাচ হাতে রেখে নকআউটে চলে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
দুটি ম্যাচে পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়ে সবার থেকে এগিয়ে মেসি। লিওনেল স্কালোনি এমন একটি দল গড়ে তুলেছেন, যেখানে সবাই নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার। গোলবারে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দে পল ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, আর সামনে লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা-সব মিলিয়ে দলটি বিশ্বের অন্যতম সেরা। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য এবং জয়ের মানসিকতা।
ফ্রান্সকে আমি শিরোপার অন্যতম দাবিদার মনে করি। তাদের স্কোয়াডের গভীরতা অসাধারণ। মাইক মেনিয়াঁ, উইলিয়াম সালিবা, জুল কুন্দে, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা থেকে শুরু করে কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। কোচ দিদিয়ের দেশম দীর্ঘদিন ধরে এই দল পরিচালনা করছেন। বিশ্বকাপের চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, তিনি খুব ভালো জানেন।
স্পেনকে আমি এবার গুরুত্ব দিচ্ছি। তারা শুধু প্রতিভাবান নয়, দল হিসাবে পরিণত। পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, নিকো উইলিয়ামস ও লামিনে ইয়ামালের মতো ফুটবলাররা আধুনিক ফুটবলের নতুন মুখ। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন আবারও নিজেদের পরিচিত পাসিং ফুটবলের সঙ্গে গতি ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছে। এই দলটি অনেকদূর যেতে পারে। জার্মানিকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, টুর্নামেন্ট যত এগোয়, জার্মানি তত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, যশুয়া কিমিখ, আন্তোনিও রুডিগারদের নিয়ে তারা নতুন দল গড়ে তুলেছে। জার্মান ফুটবলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
বিশ্বকাপে অনেক সময় প্রতিভাবান দল নয়, সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল সফল হয়। ইতিহাস বলছে, যারা সংকটের মুহূর্তে একসঙ্গে লড়াই করতে পারে, তারাই শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতে তোলে। তাই আমি মনে করি, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপার দাবিদার স্পেন, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও ফ্রান্স।
