Logo
Logo
×
   

খেলা

ইংল্যান্ডের অপেক্ষা

মেক্সিকোর আবেগ

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ পিএম

মেক্সিকোর আবেগ

শেষ ষোলোর মঞ্চে মুখোমুখি মেক্সিকো ও ইংল্যান্ড।

শেষ ষোলোর মঞ্চে মুখোমুখি মেক্সিকো ও ইংল্যান্ড। এক পাশে লাতিন আমেরিকার আবেগ, রঙিন গ্যালারি আর অদম্য লড়াইয়ের প্রতীক মেক্সিকো। অন্য পাশে ইউরোপীয় শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য আর বহুদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন বুকে নিয়ে এগিয়ে চলা ইংল্যান্ড।

ম্যাচটি  হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় (মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম)। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৬টায় শুরু হবে শেষ ষোলোর এই মহারণ। প্রায় ৮৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই কিংবদন্তি স্টেডিয়াম বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় ভেন্যু। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার (৭ হাজার ২০০ ফুটের বেশি) উচ্চতায় অবস্থিত এই মাঠে খেলতে হলে ফুটবল দক্ষতার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতারও কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত থাকবে একটি প্রশ্নের অপেক্ষা। ইতিহাস কি ইংল্যান্ডের দিকে হাত বাড়াবে, নাকি মেক্সিকোর আবেগ লিখবে বিশ্বকাপের নতুন রূপকথা?

ইংল্যান্ড নাম উচ্চারিত হয় শ্রেষ্ঠত্বের আলোচনায়। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি থ্রি লায়ন্সদের। প্রতিটি আসরেই সম্ভাবনার আলো জ্বলে ওঠে, কোনো না কোনো মোড়ে তা নিভেও যায়। এবার ইংল্যান্ডের চোখে অন্যরকম দৃঢ়তা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ অধ্যায় লিখতেই এসেছে তারা।

মেক্সিকো কখনো হার মানতে শেখেনি। বিশ্বকাপ মানেই সবুজ জার্সির উচ্ছ্বাস, ট্রাম্পেটের শব্দ, গ্যালারিজুড়ে হাজারো কণ্ঠের একসঙ্গে গান। বহুবার শেষ ষোলো পর্যন্ত এসে থেমেছে তাদের যাত্রা। এবার সেই অভিশাপ ভেঙে আরও দূরে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর এল ত্রি।

চলতি বিশ্বকাপে মেক্সিকো নতুন এক পরিচয়ে হাজির হয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো সিটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২–০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের যাত্রা শুরু। গুয়াদালাহারায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ১–০ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত হওয়ার পথে এগিয়ে যায় তারা। শেষ গ্রুপ ম্যাচে চেকিয়াকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়। রাউন্ড অব ৩২-এ ইকুয়েডরকে ২–০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে আসে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে। চার ম্যাচে আট গোল করে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে কতটা পরিণত ফুটবল খেলছে এল ত্রি।

ইংল্যান্ডও কম যায়নি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪–২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে শুরু। বোস্টনে ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। শেষ ম্যাচে নিউ জার্সিতে পানামাকে ২–০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় থ্রি লায়ন্সরা। রাউন্ড অব ৩২-এ আটলান্টায় ডিআর কঙ্গোকে ২–১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই শেষ ষোলোর মঞ্চে হাজির হয়েছে ইংল্যান্ড।

মেক্সিকোর আক্রমণের প্রাণ সান্তিয়াগো গিমেনেস। প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি শট, প্রতিটি স্পর্শে যেন ফুটে ওঠে জয়ের ক্ষুধা। তার পাশে হিরভিং লোসানোর গতি এবং আলেক্সিস ভেগার সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষকে ব্যস্ত রাখছে। মাঝমাঠে এদসন আলভারেজ দলের হৃদস্পন্দন। গোলবারের নিচে গিয়ের্মো ওচোয়া বিশ্বকাপ এলেই হয়ে যান অন্য এক মানুষ।

ইংল্যান্ডের গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হ্যারি কেইন। গোল করার পাশাপাশি পুরো আক্রমণকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। জুড বেলিংহাম মাঝমাঠের কবি।তার প্রতিটি পাসে ফুটে ওঠে সৌন্দর্য। বুকায়ো সাকা, ফিল ফোডেন ও ডেকলান রাইস মিলে ইংল্যান্ডের আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছেন।   

ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর। কোচের ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। মেক্সিকোকে সম্মান করেই আমাদের খেলতে হবে।’

মেক্সিকো কোচও জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ইংল্যান্ড হয়তো বড় নাম, কিন্তু মাঠে নামের কোনো মূল্য নেই। সাহস, পরিশ্রম আর বিশ্বাসই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।’

ম্যাচের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হয়তো কৌশলের লড়াই। ইংল্যান্ড বলের দখল রেখে ধীরে ধীরে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। আর মেক্সিকো অপেক্ষা করবে সেই এক মুহূর্তের, যখন দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের হৃদয়ে আঘাত হানা যাবে।

ফুটবলের আগে থেকে কেউ জানে না শেষ হাসিটা কার। হয়তো কেইনের পায়ে জন্ম নেবে আরেকটি ইংলিশ উৎসব। হয়তো গিমেনেসের এক স্পর্শে উল্লাসে ফেটে পড়বে মেক্সিকো সিটি। এস্তাদিও আজতেকার আলো নিভে যাওয়ার পর একটি দল এগিয়ে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে, অন্য দলের স্বপ্ন থেমে যাবে সেখানেই।

ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম