|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কমনওয়েলথ গেমস শেষ হওয়ার পর গ্লাসগোকে নতুন করে চিনতে হয়। দু’দিন আগেও যে শহরের প্রতিটি মোড়ে দেখা যেত রঙিন পতাকা, স্বেচ্ছাসেবকদের হাসিমুখ, কাঁধে অ্যাক্রেডিটেশন ঝুলিয়ে ছুটে চলা অ্যাথলেট, সেই শহর রাতারাতি বদলে গেছে।
হাইড্রোর সামনে আর লম্বা লাইন নেই। স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামের বাইরে নেই দর্শকদের উচ্ছ্বাস। টলক্রস সুইমিং সেন্টারের সামনে থেমে থাকা টেলিভিশনের সম্প্রচার ভ্যানগুলোও চলে গেছে। গেমসের ব্যানার খুলে ফেলা হচ্ছে। কোথাও কর্মীরা ভাঁজ করছেন অস্থায়ী বেড়া, কোথাও খুলে নেওয়া হচ্ছে নির্দেশিকা বোর্ড।
গ্লাসগো আবার নিজের ছন্দে ফিরছে।
ক্লাইড নদীর তীরে আবার সেই চেনা হাঁটা। অফিসগামী মানুষের ভিড়। ক্যাফেতে কফির কাপ হাতে আড্ডা। ট্রেন সময়মতো আসছে, বাস যাচ্ছে, পার্কে শিশুরা খেলছে।
মনে হচ্ছে, যেন কিছুই ঘটেনি। আসল সত্যি অন্য। এই শহরের ভেতরে কোথাও এখনও রয়ে গেছে সেই এগারো দিনের স্পন্দন।
একজন ট্যাক্সিচালক বলছিলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পৃথিবীর নানা দেশের মানুষকে নিয়ে ঘুরেছি। আবার আগের মতো যাত্রী। শহরটা একটু ফাঁকা লাগছে।’
মাদ্রাজ কফিশপের স্টাফ শোভন হেসে বললেন, ‘প্রতিদিন নতুন নতুন ভাষা শুনতাম। এখন আবার শুধু গ্লাসগোর উচ্চারণ।’
অ্যাথলেট ভিলেজও নেমে এসেছে নীরবতা। খালি বিছানা, বন্ধ দরজা, সরিয়ে নেওয়া জাতীয় পতাকা—উৎসব শেষ।
তবে কিছু উৎসব শেষ হয় না। গ্লাসগো ২০১৪ সালে একবার কমনওয়েলথকে আপন করে নিয়েছিল। বারো বছর পর আবারও ডাকে সাড়া দিয়েছিল। বড় আয়োজন শুধু অর্থ দিয়ে হয় না, হয় মানুষের ইচ্ছাশক্তি, পরিকল্পনা আর ভালোবাসা দিয়ে।
এবারের গেমস ছিল ছোট পরিসরের, কিন্তু আবেগে কোনো ঘাটতি ছিল না। গ্লাসগো বিশ্বকে দেখিয়েছে, নতুন স্টেডিয়াম না বানিয়েও বিশ্বমানের আসর আয়োজন করা যায়। দেখিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবকদের হাসিও একটি গেমসের সবচেয়ে বড় সম্পদ হতে পারে।
সেই হাসিমুখগুলোও নিজেদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। কেউ আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ অফিসে, কেউ দোকানে। গ্লাসগো এখন আর গেমস সিটি নয়। সে আবার সাধারণ একটি শহর। কিন্তু সত্যিই কি সাধারণ? না। এই শহরের স্মৃতিতে এখন যোগ হয়েছে আরও একটি অধ্যায়। এখানে দৌড়েছিলেন বিশ্বের দ্রুততম স্প্রিন্টাররা। এখানে জিতেছিলেন নতুন চ্যাম্পিয়নরা। এখানেই বিদায় নিয়ে শুরু হয়েছিল আহমেদাবাদের অপেক্ষা।
শহর হয়তো তার সাজ খুলে ফেলেছে। কিন্তু স্মৃতি খুলে রাখা যায় না। কয়েক মাস পর স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে আবার স্থানীয় লিগ হবে। হাইড্রোতে আবার কনসার্ট হবে। টলক্রসে আবার স্থানীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা। সবকিছুই আগের মতো হবে।
শুধু এই শহর জানবে, একসময় এগারো দিনের জন্য পৃথিবীর ক্রীড়া মানচিত্রের কেন্দ্র ছিল সে। গ্লাসগো এখন আবার গ্লাসগো। শহরটি নিজেই ফিসফিস করে বলে কিছু উৎসব শেষ হয় না, তারা শুধু স্মৃতি হয়ে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে।

