Logo
Logo
×
   

খেলা

ক্রীড়ার নামে কোটি কোটি টাকা, পদকের আলো কোথায়?

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

ক্রীড়ার নামে কোটি কোটি টাকা, পদকের আলো কোথায়?

ক্রীড়ার জন্য বাজেট বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেওয়ার তালিকাও। সেই অনুপাতে কি বাড়ছে প্রস্তুতি আর পদকের সম্ভাবনা? প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে এবার।

চলতি অর্থবছরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা।

এত বড় বরাদ্দের পরও আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের সাফল্যের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। সদ্য অনুষ্ঠিত গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ ১৫ জন ক্রীড়াবিদকে চারটি খেলায় পাঠিয়েও পদকের দেখা পায়নি।

প্রশ্ন তাই উঠছে, ক্রীড়ার পেছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, তার ফল কোথায়? কতটা অর্থ যাচ্ছে খেলোয়াড়ের প্রশিক্ষণে, কতটা অবকাঠামোতে, আর কতটাই বা প্রশাসনিক ব্যয়ে?

কমনওয়েলথ গেমস শেষ হওয়ার পরেই বাংলাদেশের সামনে আরেকটি বড় আন্তর্জাতিক আসর। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি নাগোয়ায় বসবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। বাংলাদেশের জন্য নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের আরেকটি বড় পরীক্ষা।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা জানান, ‘এশিয়ান গেমসে ২৬টি ডিসিপ্লিনে ২০২ জন ক্রীড়াবিদ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

প্রশিক্ষণ, অংশগ্রহণ ও আয়োজনের দায়িত্বও নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সেই প্রস্তুতির বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। সর্বশেষ খবরে ২২টি ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কয়েকটি দল প্রস্তুতি শুরু করলেও অন্যদের ক্যাম্প ও প্রশিক্ষণ নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পতাকা থাকবে, অ্যাথলেটরা মাঠে নামবেন, জাতীয় সংগীত বাজবে। পদকের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, বিদেশি কোচ ও নিয়মিত প্রতিযোগিতার কতটা নিশ্চিত করা হয়েছে সেটিই বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক আসর এলেই প্রস্তুতির তোড়জোড় শুরু হয়। কখনও শেষ মুহূর্তে ক্যাম্প, কখনও স্বল্পমেয়াদি বিদেশ সফর, কখনও সরঞ্জাম কেনাকাটা। পদক জিততে হলে এই প্রস্তুতি শুরু হওয়ার কথা অনেক আগে। প্রতিপক্ষ দেশগুলো যেখানে বছরজুড়ে পরিকল্পনা করে, সেখানে বাংলাদেশে অনেক সময় মূল প্রতিযোগিতার কয়েক মাস আগে প্রস্তুতি শুরু হয়।

অবশ্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, সরকার শূন্য থেকে শুরু করে অলিম্পিকে পদক জয়ের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, একদিনে ফল আসবে না, পরিকল্পিতভাবে খেলোয়াড় তৈরির কাজ করতে হবে। কথাটি আশাব্যঞ্জক। প্রশ্ন হলো, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কোথায়?

একজন খেলোয়াড়ের পেছনে বছরে কত টাকা খরচ হলো, কত দিন প্রশিক্ষণ হলো, কতটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন, তার পারফরম্যান্স কতটা উন্নত হলো এসব হিসাব থাকা দরকার। শুধু বাজেট বরাদ্দ নয়, প্রতিটি টাকার বিপরীতে কী ফল এসেছে, সেটিও দেখতে হবে।

ক্রীড়ায় ব্যর্থতার দায় শুধু খেলোয়াড়ের নয়। একজন ক্রীড়াবিদ মাঠে নামেন প্রস্তুতি নিয়ে। সেই প্রস্তুতির পরিবেশ তৈরি করেন প্রশাসক, ফেডারেশন, কোচ, চিকিৎসক, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই পদক না এলে শুধু খেলোয়াড়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করালে চলবে না, পুরো ব্যবস্থাটিকেই প্রশ্ন করতে হবে।

কমনওয়েলথে পদকশূন্যতা সেই প্রশ্ন আরও সামনে এনেছে। এবার জাপানের এশিয়ান গেমস সামনে। সেখানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অন্তত কয়েকটি ডিসিপ্লিনে বাস্তবসম্মত পদকের লক্ষ্য থাকা দরকার। আর সেই লক্ষ্য পূরণে এখনই প্রয়োজন শেষ মুহূর্তের দৌড় নয়, পরিকল্পিত প্রস্তুতি।

ক্রীড়ার বাজেট আরও বাড়ুক, এতে আপত্তির কিছু নেই। প্রয়োজন হলে আরও বাড়ানো উচিত। কিন্তু সেই অর্থ যেন মাঠে যায়, খেলোয়াড়ের শরীর ও দক্ষতা তৈরিতে যায়, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতিতে যায়। প্রশাসনের কাগজে যেন হারিয়ে না যায়।

জাপানের এশিয়ান গেমসে কোটি কোটি টাকার বাজেটের বিনিময়ে আমরা আসলে কতটা প্রস্তুত, আর কতটা শুধু অংশগ্রহণের জন্য? পদকের আলোয় যদি এবারও বাংলাদেশ না জ্বলে, প্রশ্নটি আরও জোরালো হবে টাকা বাড়ছে, কিন্তু ফল কোথায়?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .