রিয়ালের সবচেয়ে দামি ফুটবলার ছিল না মরিনিয়োর মূল তালিকায়
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন হোসে মরিনিয়ো। প্রাক-মৌসুমে ইতোমধ্যে স্কোয়াডের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন পর্তুগিজ এই কোচ। শনিবার লা লিগায় স্পেনিওলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লস ব্লাঙ্কোসদের অভিযান।
নতুন মৌসুমে মাঠে বল গড়ানোর আগে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নিয়ে নিজের পরিকল্পনা পরিষ্কার করেছেন মরিনিয়ো। তুর্কি আর্দা গুলেরের ভূয়সী প্রশংসা করে ‘স্পেশাল ওয়ান’ তার উন্নতিকে লুকা মদ্রিচের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তবে ইয়ান দিওমান্দের রিয়ালে যোগ দেওয়া নিয়ে মরিনিয়োর মন্তব্য বেশ আলোড়ন তুলেছে। মরিনিয়ো নিশ্চিত করেছেন, এই উইঙ্গারকে দলে নেওয়ার জন্য তিনি নিজে সরাসরি অনুরোধ করেননি, তবে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে দলে টানায় তিনি যে ভীষণ খুশি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
এল চিরিংঙ্গিউ টিভি পডকাস্টে জোসেপ পেদ্রেয়রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরিনিয়োকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি নিজে দিওমান্দেকে কেনার জন্য অনুরোধ করেছিলেন কিনা।
উত্তরে রিয়াল মাদ্রিদ বস স্পষ্ট করে বলেন, আমি কি ইয়ান দিওমান্দের সই করার জন্য বলেছিলাম? না, আমি বলিনি, কিন্তু আমি তাকে চেয়েছিলাম।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হয় যে দিওমান্দে হয়তো মরিনিয়োর প্রাথমিক দলবদলের তালিকার প্রধান চাহিদা ছিলেন না, তবে ক্লাব যখন এই তরুণকে দলে ভেড়ায়, তখন কোচ হিসেবে তিনি বেশ সন্তুষ্টই হয়েছেন, ‘ও একজন দারুণ খেলোয়াড়, যে মাঠের দুই প্রান্তেই খেলতে পারে।’
ইয়ান দিওমান্দের এই বহুমুখী প্রতিভা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ক্লাবটির ইতহাসে সবচেয়ে দামি ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। তাকে দলে নিতে স্প্যানিশ জায়ান্টদের খরচ হয়েছে ১৪ কোটি ইউরো।
মূলত উইঙ্গার হলেও দিওমান্দে ডান প্রান্তে যেমন সাবলীল, তেমনি বাম পাশেও সমানভাবে কার্যকর। তার অবিশ্বাস্য গতি দলের আক্রমণভাগে নতুন আরেকটি বিকল্প যোগ করেছে। আইভরি কোস্টের এই ১৯ বছর বয়সি ফুটবলার দিওমান্দের বুন্দেসলিগার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌসুমের পরিসংখ্যান ছিল বেশ নজরকাড়া।
অপটা ডাটা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে লাইপজিগের হয়ে বুন্দেসলিগায় ৩৩ ম্যাচ খেলে ১২টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। এছাড়া তিনটি ডিএফবি পোকাল ম্যাচে এক গোল ও এক অ্যাসিস্টসহ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৩ এবং অ্যাসিস্ট ১০টি।
লেগানেস থেকে ২০২৫ সালে লাইপজিগে যোগ দেওয়ার পর দিওমান্দের এই উত্থান সত্যিই অভাবনীয়। এর আগে তিনি লেগানেসের হয়ে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ১০টি লা লিগা ম্যাচ খেলে দুটি গোল করেছিলেন এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে ‘বুন্দেসলিগা রুকি অব দ্য সিজন’ বা মৌসুমের সেরা নবাগতর পুরস্কার এনে দেয়। পাশাপাশি তিনি আইভরি কোস্টের জাতীয় দলের সিনিয়র দলেও জায়গা করে নেন এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলে একটি অ্যাসিস্টও করেন।

