আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কে মিশরের বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও আর্জেন্টিনা ও মিশরের শেষ ষোলোর ম্যাচের বিতর্ক থামেনি। তবে ম্যাচের নাটকীয় ফলের চেয়ে এখন বেশি আলোচনায় রয়েছে রেফারিং নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক।
ম্যাচ শেষে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান, ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। এবার তাদের সেই মন্তব্যের জেরেই শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফিফা।
মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতীয় দলের কোচ, ম্যানেজার ও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৭ জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের পর তাদের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইএফএ জানিয়েছে, ফিফার নেওয়া সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম তারা পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে দলের কোচ, ম্যানেজার ও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া প্রক্রিয়াটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে মিশরের ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
আর্জেন্টিনা-মিশরের সেই ম্যাচে একসময় জয় প্রায় নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল মিশরের। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু শেষ দিকে পুরোপুরি পালটে যায় ম্যাচের চিত্র। শেষ ১৪ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা এবং কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
ম্যাচের ফলের পাশাপাশি মিশরের ক্ষোভের বড় কারণ ছিল রেফারি লেতেক্সিয়ের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত। তার সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মিশরের কোচ ও খেলোয়াড়েরা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মোস্তফা জিকো। ম্যাচে গোল করে উদযাপনও করেছিলেন তিনি। কিন্তু রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেওয়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের সময় জিকোসহ মিশরের কয়েকজন সদস্য বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসান ও আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির মধ্যেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সেই উত্তেজনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। রেফারি লেতেক্সিয়েকে ঘিরে মিশরীয় সমর্থকদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে একপর্যায়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন ফরাসি এই রেফারি।
রেফারিং বিতর্ক আরও বড় আকার নেয় পরে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের দাবি, মিশরীয় সমর্থকেরা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে একটি বিতর্কিত ই-মেইলও পাঠিয়েছিল। ওই ই-মেইলেও ম্যাচের রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় বলে দাবি করা হয়।
ফলে বিশ্বকাপের পরও আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচটি দুই দলের সমর্থকদের আলোচনায় রয়ে গেছে। মিশরের কাছে ম্যাচটি নিশ্চিত জয়ের কাছাকাছি গিয়েও নাটকীয়ভাবে বিদায়ের স্মৃতি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কাছে এটি শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের অন্যতম স্মরণীয় উদাহরণ।
শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠলেও বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় স্কালোনির দল। এই জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
সূত্র: গোল ডট কম

