‘অ্যাবসেন্স এপিলেপসি’ নামের একধরনের মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়েছেন মুসিয়ালা। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খারাপ সময় যেন পিছু ছাড়ছে না জামাল মুসিয়ালার। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই জার্মান এই তারকার শরীরে ধরা পড়েছে জটিল এক স্নায়বিক ব্যাধি। ‘অ্যাবসেন্স এপিলেপসি’ নামের একধরনের মৃগীরোগে আক্রান্ত হওয়ায় বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মাঠে ফিরতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে ২৩ বছর বয়সি এই মিডফিল্ডারকে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম কিকার জানিয়েছে, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ফ্রেঞ্চ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপের ম্যাচে মুসিয়ালা খেলতে পারেননি। আগামী শুক্রবার স্টুটগার্টের বিপক্ষে বুন্দেসলিগার উদ্বোধনী ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে না। তবে বিল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুন্দেসলিগার দ্বিতীয় রাউন্ডে শালকে জিরো ফোরের বিপক্ষে ম্যাচে দলে ফিরতে পারেন তিনি।
প্রাক-মৌসুমের দুটি প্রীতি ম্যাচে লাইপজিগ ও হাইডেনহাইমের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে হঠাৎ মাঠে সাময়িকভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মুসিয়ালা। এরপরই তার স্নায়বিক জটিলতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
অ্যাবসেন্স এপিলেপসির বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করে নিউরোসেন্ট্রাম মিউনিখ শ্যোয়াবিংয়ের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর রেজিনা বেকার বলেন, ‘অ্যাবসেন্স এপিলেপসির সূচনা হয় মস্তিষ্কের থ্যালামাস অংশে, যা আমাদের চেতনা নিয়ন্ত্রণ করে। এখানে ব্যাঘাত ঘটলে রোগী সাময়িকভাবে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা হারান। নিউরনগুলোর অনিয়ন্ত্রিত উদ্দীপনার কারণে রোগী চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে অসচেতন হয়ে পড়েন এবং শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন বা হুট করে পড়ে যান। বাইরে থেকে দেখে মনে হয় রোগী যেন এক জায়গায় জমে গেছেন।’
তবে মুসিয়ালার এই শারীরিক সমস্যার কথা বায়ার্ন মিউনিখের কাছে আগে থেকেই জানা ছিল। ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর মাক্স এবার্ল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন মুসিয়ালা। বিষয়টি ক্লাবের মেডিকেল টিম ও সতীর্থদেরও জানা ছিল।
সম্প্রতি তার ওষুধের চিকিৎসায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন ওষুধের সঙ্গে শরীরের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার কারণেই মাঠে অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনা ঘটে। তাই ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাকে দলীয় অনুশীলন ও ম্যাচ থেকে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়।
বায়ার্নের প্রধান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি গত শুক্রবার বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো জামাল যেন কোনো মানসিক চাপ ছাড়াই নতুন ওষুধের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। আমরা পরিস্থিতি সামলাতে জানি এবং এই সপ্তাহে ও এককভাবে (ইন্ডিভিজুয়াল) অনুশীলন করবে।’
মুসিয়ালার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সমর্থকদের আশ্বস্ত করে মাক্স এবার্ল বলেন, ‘এখানে ঝুঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত থাকা তো সম্ভব নয়, তবে জামাল সঠিক পথেই এগোচ্ছে। ক্লাবেরও এই বিষয়ে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে।’
গত মৌসুমে গোড়ালি ও ফিবুলার গুরুতর চোটের কারণে ক্লাব বিশ্বকাপ ও বিশ্বকাপে নিজের সেরা ছন্দে খেলতে পারেননি মুসিয়ালা। নতুন মৌসুমে চোট কাটিয়ে পুরোনো রূপে ফেরার প্রত্যাশা থাকলেও শুরুতেই নতুন এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাকে।
তবে মুসিয়ালাকে নিয়ে আশাবাদী কোচ কোম্পানি। তার বিশ্বাস, পুরোপুরি ফিট হয়ে আগের সেই দুর্দান্ত ছন্দেই মাঠে ফিরবেন জার্মান এই তারকা।

