Logo
Logo
×
   

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

আকাশের নীল রঙ কি বদলে যাবে?

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১১:০৪ পিএম

আকাশের নীল রঙ কি বদলে যাবে?

আমাদের মাথার উপরে ছেয়ে থাকা আকাশ অতীতে নীল ছিল ও ভবিষ্যতে নীল থাকবে বলে আমরা ধারণা করে থাকি। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, আকাশের এই পরিচিত নীল রঙ সবসময় এমন ছিল না, ভবিষ্যতেও এটি পরিবর্তিত হতে পারে।  পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, সূর্যের আলো এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে আকাশের রঙেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচের বিজ্ঞানী ফিন বারেজের জানান, সূর্যের সাদা আলোতে রংধনুর সব রঙ থাকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের ক্ষুদ্র কণা এই আলোকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট হওয়ায় সেটি বেশি ছড়িয়ে পড়ে এবং আমাদের চোখে আকাশ নীল দেখায়।  

এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘রেইলি স্ক্যাটারিং’ বা রেইলি বিক্ষেপণ, যা ১৮৭০-এর দশকে আবিষ্কার করেছিলেন ব্রিটিশ পদার্থবিদ লর্ড রেইলি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর আদি বায়ুমণ্ডল বর্তমানের মতো ছিল না।  প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন খুব কম ছিল, কিন্তু কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের আধিক্য ছিল বেশি।  তখন আকাশ কমলা বা ধোঁয়াটে রঙের হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। পরে ‘গ্রেট অক্সিজেন ইভেন্ট’ -এর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন বাড়তে শুরু করলে ধীরে ধীরে পৃথিবী আজকের পরিচিত নীল আকাশ লাভ করে।

অন্য গ্রহগুলোর আকাশও ভিন্ন। মঙ্গল গ্রহে  পাতলা বায়ুমণ্ডল ও ধূলিকণার কারণে লাল বা হলুদ আকাশের সঙ্গে নীল রঙের সূর্যাস্ত দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দূষণ, দাবানল, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা ধূলিঝড় সাময়িকভাবে আকাশের রঙ বদলে দিতে পারে। ১৮৮৩ সালে ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পর বিশ্বজুড়ে লাল সূর্যাস্ত ও ‘নীল চাঁদ’ দেখা গিয়েছিল।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্লেয়ার রাইডার মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ও ভাসমান কণার পরিমাণ বাড়তে পারে, ফলে আকাশ কিছুটা সাদাটে দেখাতে পারে।  তবে দূষণ কমলে আরও স্বচ্ছ নীল আকাশও দেখা যেতে পারে।

তবে স্থায়ীভাবে আকাশের রঙ বদলাতে হলে বায়ুমণ্ডলে বিশাল পরিবর্তন প্রয়োজন।  বিজ্ঞানীদের ধারণা, সূর্যের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় একশ কোটি বছর পরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আরও দূর ভবিষ্যতে সূর্য ‘রেড জায়ান্ট’ বা লাল দানবে পরিণত হলে পৃথিবীর আকাশও গাঢ় লাল হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞানী ফিন বারেজ বলেন, কিন্তু ততদিনে সেই দৃশ্য দেখার মতো কোনো প্রাণ অবশিষ্ট থাকবে না। আমি আশা করি, ততদিনে মানুষ অন্য কোথাও নতুন কোনো নীল আকাশের সন্ধানে নক্ষত্রগুলোর গভীরে চলে যাবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .