Logo
Logo
×
   

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার ‘কার্যকারিতা’ নিয়ে বিতর্ক

Icon

আইটি ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার ‘কার্যকারিতা’ নিয়ে বিতর্ক

১৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সিংহভাগ অপ্রাপ্তবয়স্ক এখনো এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করছে—সম্প্রতি উঠে আসা এমন তথ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করতে অস্ট্রেলীয় আইনপ্রণেতাদের অনুরোধ জানিয়েছে শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। 

গত বছরের ডিসেম্বরে ঐতিহাসিক এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও প্রায় ৮০ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক এখনো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করছে বলে অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে। এর ওপর ভিত্তি করেই অস্ট্রেলিয় সিনেট কমিটি মেটা, গুগল, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের স্থানীয় প্রধানদের মুখোমুখি করে জবাবদিহির আওতায় আনে। 

একই সময়ে ই-সেফটি কমিশনার আইন অমান্যকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কথা ভাবছেন এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধীরে পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, প্রাথমিক এসব সমীক্ষার তথ্যে বাস্তব পরিস্থিতির পুরোপুরি প্রতিফলন ঘটে না। 

ইউটিউবের প্রতিনিধি যুক্তি দেন যে, বয়স যাচাইকরণের বেশিরভাগ প্রযুক্তি আগে ১৮ বছর বয়সসীমার কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছিল এবং ১৬ বছরের নিচের ব্যবহারকারী চিহ্নিত করার প্রযুক্তিগুলো এখনো প্রতিনিয়ত উন্নত করা হচ্ছে। 

মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবে অ্যাকাউন্ট থাকার পার্থক্যের সুযোগ থেকে যায়। অবশ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার দাবি করেছে। মেটা প্রায় সাড়ে সাত লাখ সন্দেহভাজন অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে, ইউটিউব প্রায় সাত লাখ ৪০ হাজার ব্যবহারকারীকে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে বাধা দিয়েছে এবং টিকটক আইন কার্যকরের পর থেকে প্রতি মাসে গড়ে ২৪ হাজার করে অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিচ্ছে। 

অন্যদিক, ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট স্বীকার করেছেন যে প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি পুরোপুরি থামাতে এখনো সফল হয়নি, তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কিছুটা কমায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পূর্ণাঙ্গভাবে কড়াকড়ি শুরু হলে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার সরকার নিষেধাজ্ঞার নিয়মকানুন আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে। 

বর্তমানে প্রস্তাবিত নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘনকারী টেক জায়ান্টদের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে উন্নীত করা এবং তদন্তের স্বার্থে যেকোনো তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে আদায়ের জন্য ই-সেফটি কমিশনারের আইনি ক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।  

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .