অস্ত্রধারী যুবকদের ধরতে মাঠে র্যাব ও গোয়েন্দা
ইকবাল হাসান ফরিদ
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কোটা সংস্কার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ চলাকালে সোমবার আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি করতে দেখা গেছে কয়েক যুবককে। এই যুবকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ ও র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট এরই মধ্যে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের আড়ালে বহিরাগতরা ঢুকে গুলি এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো তাণ্ডব চালিয়েছে।
এ বিষয়ে ডিবি প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, এই অস্ত্রধারীদের চিহ্নিত করতে ডিবির একটি টিম কাজ শুরু করেছে। অস্ত্রধারী যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব অস্ত্রধারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের হাতে থাকা অস্ত্র বৈধ নাকি অবৈধ তা যাচাই করা হবে। অবৈধ হলে এসব অস্ত্রের উৎসও খোঁজা হবে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের-র্যাব মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল মো. মুনীম ফেরদৌস যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমরাও অবগত আছি। ছবিগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছে র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট। কোনো অপশক্তি এই কাজ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া অপরাধী যে-ই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
জানা গেছে, সোমবার দুপুরের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শহীদুল্লাহ হলের সামনে ১৫-২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় গুলিও ছোড়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অন্তত ৪ যুবক ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এসব অস্ত্রধারীদের ছবিও এসেছে গণমাধ্যমে। এরপর থেকেই এসব ছবি দেখে অস্ত্রধারী যুবকদের চিহ্নিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় পুলিশ ও গোয়েন্দাদের। নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান রয়েছে তদন্ত। এলিট ফোর্স র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটও এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের এক ছবিতে তিন যুবককে ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে অ্যাকশনরত অবস্থায় দেখা যায়। তবে তাদের গুলিতে হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল এলাকা। এই তিনজনের মধ্যে একজনের পরনে জিন্স প্যান্ট, কালো পলো-টিশার্ট ও মাথায় হেলমেট। দ্বিতীয় জনের মাথায় সাদা রঙের হেলমেট, গায়ে টিয়া কালারের হাফহাতা শার্ট এবং অপরজনের পরনে সাদার মধ্যে প্রিন্ট করা হাফহাতা শার্ট। তবে এই তিনজনের কারও পরিচয় পাওয়া যায়নি।
তবে অপর একটি ছবিতে জিন্স প্যান্ট এবং ফুলহাতা সাদার মধ্যে প্রিন্টের শার্ট এবং মাথায় কালো হেলমেট পরিহিত এক যুবককে অস্ত্র তাক করে অ্যাকশনে থাকা অবস্থায় দেখা গেছে। তার নাম হাসান মোল্লা।
তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। ছাত্রলীগের সোহাগ-জাকির কমিটির সহ-সম্পাদকও ছিলেন। হাসান মোল্লা ঢাকা কলেজের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষ ও আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। তিনি ক্যাসিনোকাণেড বহিষ্কৃত বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসারের ভাতিজা। সূত্র জানায়, হাসান মোল্লা পেশায় একজন ঠিকাদার। পানি উন্নয়ন বোর্ড, গৃহায়ণ ও গণপূর্তের অন্যতম ঠিকাদার। ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করা হাসান মোল্লা কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে হাসান মোল্লার সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আবু কাওসার মোল্লাকে যুগান্তর থেকে একাধিকবার ফোনকল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। একপর্যায়ে ফোন বন্ধ রাখেন তিনি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রধারী যেই হোক তাকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
