Logo
Logo
×

আনন্দ নগর

তারকার চোখে বৈশাখ

পুরোনো দিনের রঙিন স্মৃতি

Icon

এএম রুবেল

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পুরোনো দিনের রঙিন স্মৃতি

সাধারণ মানুষের মতো শোবিজ তারকারা বিশেষ দিবসগুলোয় নানারকম পরিকল্পনা সাজান। স্মরণীয় করে রাখতে চান স্মৃতির পাতায়। পহেলা বৈশাখ ঘিরেও তাদের ছোটবেলার অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। তারকাখ্যাতির পর বাঙালির প্রাণের এই উৎসবটি ভিন্নভাবে উদযাপন করলেও দিনটি এলে ফিরে যান শৈশবে। তাদের বয়ানে শৈশবের বৈশাখ এবং তারকাজীবনের বৈশাখের আদ্যোপান্ত থাকছে এ প্রতিবেদনে। লিখেছেন-এএম রুবেল

আসিফ আকবর, সংগীতশিল্পী

বৈশাখের কোনো উৎসবে যখনই দেখি বাচ্চারা খেলছে, তখন নিজেই হারিয়ে যাই সেই অতীতে। যেন আমি এখনো নাগরদোলায় চড়ছি। বৈশাখী মেলা থেকে অনেক খেলনা কিনতাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম টিনের এক ধরনের জাহাজ আছে, ওগুলো পেলে। এখন এসবই স্মৃতির ঘরে বাঁধা। কারণ এখন তো আর সেভাবে মেলায় যেতে পারি না। কনসার্ট এবং অনুষ্ঠানে আটকে গেছে আমার বৈশাখ।

আঁখি আলমগীর, সংগীতশিল্পী

স্কুলে যখন পড়তাম তখন বড় পরিসরে বৈশাখ নিয়ে এত আয়োজন দেখতাম না। শুধু স্কুলে অনুষ্ঠান হতো ও বাসার আশপাশে কয়েক জায়গায় মেলা হতো। এখন পহেলা বৈশাখ বিশাল একটি উৎসব। বৈশাখী মেলায় তেমন যাওয়া হতো না হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে। আর এখন ইচ্ছে থাকলে কাজের ব্যস্ততায় যাওয়া হয় না। ছোটবেলায় যেযমন বাবার সাথে মেলায় গেলে মানুষ ঘিরে ধরতেন তেমনই এখনো ধরেন। তাই আমি বেশির ভাগ সময় কাজের বাইরে ঘরোয়াভাবেই দিনটি পালন করি।

অপু বিশ্বাস, চিত্রনায়িকা

আমি প্রতিবছরই পান্তা-ইলিশ দিয়ে নতুন বছর শুরু করি। এবারও তাই হবে।। বিশেষ দিনে পান্তা-ইলিশ খুব ভালো লাগে। সঙ্গে থাকবে কয়েকটি ভর্তা। বাঙালিয়ানা বলতে যা বোঝায়, তা দিয়েই বছরের প্রথম সকাল শুরু করবো। তবে ছোটবেলার বৈশাখ কখনো ভুলতে পারবো না। আমাদের বগুড়ার একটি জায়গায় বছরের প্রথম দিনে বৈশাখী মেলায় যেতাম। ছোটবেলার মেলায় পরিবার থেকে সব পেতাম। এখন দায়িত্ব হয়ে গেছে। তারপরও দিনটি এলে ভালো লাগে।

মাহিয়া মাহি, চিত্রনায়িকা

ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় যাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করতাম তাদের সঙ্গে এই দিনে লুকিয়ে দেখা করার একটা সুযোগ পেতাম। বলতে গেলে বছরজুড়েই নিজেকে বন্দি মনে হতো। কিন্তু এই একটি দিনে যেহেতু সুযোগটা মিলে যেতো তাই সবসময় এ দিনের অপেক্ষায় থাকতাম। এই দিনটায় নতুন শাড়ি পরে নিজেকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে একটু রিকশায় করে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ থাকতো। মজাটা এখন আর নেই। কাজের ভিড়ে এখন বৈশাখের আমেজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

বিদ্যা সিনহা মিম, চিত্রনায়িকা

ছোটবেলার বৈশাখের সঙ্গে এখন অনেক বেশি পার্থক্য। তখন অন্যরকম এক ভালোলাগা নিয়ে নতুন জামা পরে মেলায় ঘুরতে যেতাম। খুবই মজার পহেলা বৈশাখ কাটতো শৈশবে। আমাদের বাসার ওই দিকে একটা বৈশাখী মেলা হতো। রাতের বেলা পরিবারের সবার সঙ্গে নাগরদোলায় চড়ার স্মৃতি এখনো স্মৃতিতে বহমান। তবে এখনও সময় পেলে মেলায় যাওয়ার চেষ্টা করি। তবে কাজের চাপে অনেক সময় ইচ্ছে থাকলেও যাওয়া হয়ে ওঠে না।

আজমেরী হক বাঁধন, অভিনেত্রী

মেডিকেলে পড়ার সময় পহেলা বৈশাখের সময়টায় আমাদের পরীক্ষা থাকার কারণে বৈশাখটা পালন করা হতো না। কিন্তু এখন আমি পালন করি। কারণ পহেলা বৈশাখ একটি সর্বজনীন উৎসব। আমি আর আমার মেয়ে একইরকম পোশাক বানাতে দিয়েছি। তবে খাবারদাবারের ব্যাপারটা হচ্ছে ইলিশ যেহেতু আমার প্রিয় মাছ সেহেতু সারা বছরই আমি ইলিশ খাওয়ার চেষ্টা করি। পহেলা বৈশাখে বরং বাসায় পোলাও রান্না হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম থাকছে না।

জাকিয়া বারী মম, অভিনেত্রী

শৈশবের পহেলা বৈশাখ ভীষণ রঙিন ছিল। ‘মেলায় যাইরে’ গানটির মতোই প্রতিবছর আমার মেলায় যাওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। মেলায় না গিয়ে থাকতে পারতাম না। এত কালারফুল মেলা পার করে এসেছি, যা মনে পড়লেই সেসব দিনে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। এছাড়া ওই দিনে আমি নানারকম কালচারাল অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। এখনও সময় পেলেই মেলা বা অনুষ্ঠানগুলো অংশ নেওয়ার চেষ্টা করি। এবারও ইচ্ছে আছে তেমনই। সাথে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বাঙালিয়ানা ভোজ তো থাকবেই।

বর্ষা, চিত্রনায়িকা

চিত্রনায়িকা বর্ষার ক্ষেত্রে বৈশাখের স্মৃতি আবার কিছুটা ভিন্নরকম। অন্য আট-দশজন তারকার মতো ছিল না তার শৈশব কৈশরের স্মৃতি। এ সময়টা তিনি কাটিয়েছেন গ্রামে। আর দেশের গ্রামাঞ্চলে সাধারণত বাংলা নববর্ষ বা বৈশাখ নিয়ে তেমন মাতামাতিও থাকে না। সাধারন আট-দশটা দিনের মতোই তাদের এদিনটিও একই। আর সেটাই বলেছেন বর্ষা। তিনি বলেন, ‘নববর্ষ উদযাপনের স্মৃতি আসলে আমার ছোটবেলায় তেমন কিছু নেই। তবে বৈশাখ আসতো এটা বুঝতে পারতাম। কখনও বাড়ির পাশ দিয়ে, বা কখনও দুর দূরান্ত থেকে বাঁশি বা নানাবিধ খেলনার আওয়াজ ভেসে আসতো। মেলাও হতো আমাদের ওইদিকে। দু-একবার গিয়েছিও। কিন্তু উপভোগ করার মতো স্মৃতি তেমন কিছু নেই। এখন বৈশাখ পালন করি বাচ্চাদের নিয়ে।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম