সন্তান ছাড়াই নিজেদের সুখী মনে করেন বিশ্বের ৮ তারকা দম্পতি
আনন্দনগর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সমাজে বিয়ের পর সন্তান নেওয়াকে অনেকেই জীবনের স্বাভাবিক পরিণতি হিসাবে দেখেন। তবে সব দম্পতির জীবনযাত্রা একই রকম নয়। ব্যক্তিগত পছন্দ, ক্যারিয়ার, স্বাধীনতা কিংবা জীবনদর্শনের কারণে অনেকেই সচেতনভাবেই সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হলিউডের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় তারকা দম্পতিও খোলাখুলিভাবে জানিয়েছেন, সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের জন্য ছিল সচেতন ও স্বস্তিদায়ক।
অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী সেথ রোজেন এবং তার স্ত্রী লরেন মিলার রোজেন মনে করেন, সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রোজেনের ভাষায়, এ সিদ্ধান্ত তাকে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে এবং সফল হতে সহায়তা করেছে। তাদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের সন্তুষ্টিও বেড়েছে।
কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন ও তার প্রয়াত স্বামী কার্ল ডিন দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন সন্তান ছাড়াই। আত্মজীবনীতে পার্টন লিখেছেন, তাদের কখনোই সন্তান নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল না। তবে ভাইবোনদের সন্তানদের সঙ্গেই তিনি মাতৃত্বের আনন্দ খুঁজে পেয়েছেন। তার বিশ্বাস, সন্তান না থাকায় তিনি নিজের কর্মজীবনে আরও বেশি সময় দিতে পেরেছেন।
অভিনেতা নিক অফারম্যান ও মেগান মুলালি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। মুলালি বলেন, ‘হয়তো সেটাই আমাদের ভাগ্যে ছিল না।’ অন্যদিকে অ্যালিসন ব্রি ও ডেভ ফ্রাঙ্কো মনে করেন, তাদের বর্তমান জীবনধারা ও ব্যস্ত কর্মজীবনের সঙ্গে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা মানানসই নয়।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রে বহুবার বলেছেন, সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠিত তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তিনি নিজের মাতৃত্ববোধের এক অনন্য প্রকাশ বলে মনে করেন। একইভাবে অভিনেতা ও সাবেক রেসলার জন সিনা মনে করেন, শুধু সক্ষম হলেই সন্তান নেওয়া উচিত নয়; এর জন্য প্রয়োজন গভীর ইচ্ছা ও মানসিক প্রস্তুতি।
অস্কারজয়ী অভিনেতা ক্রিস্টোফার ওয়াকেন ও তার স্ত্রী জর্জিয়ান ওয়াকেন বিশ্বাস করেন, সন্তান থাকলে তাদের দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলা কঠিন হতো। আর খ্যাতনামা রন্ধনশিল্পী ইনা গার্টেন জানিয়েছেন, সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তার স্বামী জেফ্রি সন্তান চাইলেও শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর সিদ্ধান্তকেই সম্মান জানিয়েছেন।
সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে এ তারকা দম্পতিরা বোঝাতে চেয়েছেন, সুখী ও পরিপূর্ণ দাম্পত্য জীবনের একমাত্র শর্ত সন্তান নয়। পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান, ভালোবাসা এবং নিজেদের জীবনদর্শনের প্রতি অটল থাকাই তাদের কাছে সফল সম্পর্কের মূল ভিত্তি।
