Logo
Logo
×
   

আনন্দ নগর

মিয়া তাকারাবের জে-পপ যাত্রা এখন বিশ্বমঞ্চে

Icon

আনন্দনগর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়া তাকারাবের জে-পপ যাত্রা এখন বিশ্বমঞ্চে

অ্যাডিলেড থেকে টোকিও, এরপর মেলবোর্ন, তিন শহরের ভিন্ন অভিজ্ঞতা আর দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে সংগীতশিল্পী মিয়া তাকারাবের শিল্পীসত্তা। মাত্র ২০ বছর বয়সেই এ গ্লোবাল জে-পপ শিল্পী পা রেখেছেন আন্তর্জাতিক সংগীতের মঞ্চে। তার এ পথচলা শুধু সংগীতের নয়; বরং নিজের পরিচয়কে খুঁজে পাওয়া এবং সবকিছুকে আপন করে নেওয়ার গল্পও বটে।

জাপানি বাবা ও শিখ পরিবারে বেড়ে ওঠা ভারতীয় মায়ের সন্তান মিয়ার জন্ম অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে। শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে অস্ট্রেলিয়া ও টোকিওর মধ্যে। পরে মেলবোর্নে স্থায়ী হন তিনি। দুই সংস্কৃতির মাঝখানে বেড়ে ওঠা সবসময় সহজ ছিল না। কখনো কখনো মনে হয়েছে, কোনো একটি পরিচয়ের সঙ্গেই তিনি পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারছেন না। তবে সময়ের সঙ্গে সেই দ্বিধাই বদলে যায় আত্মপরিচয়ের শক্তিতে।

মিয়া উপলব্ধি করেন, তাকে জাপানি বা ভারতীয়, কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় বেছে নিতে হবে না। বরং নিজের সব পরিচয়কেই গ্রহণ করা যায়। সেই উপলব্ধিই এখন তার সংগীতের অন্যতম ভিত্তি।

জাপানে বেড়ে ওঠার সময় ঘরে জাপানি ভাষায় কথা বলা, ঐতিহ্যবাহী খাবার খাওয়া এবং জাপানি সংগীত ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান মিয়া। অন্যদিকে শিখ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় শিকড় তাকে ভারতের সঙ্গে গভীর আবেগের বন্ধনে বেঁধেছে। অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ তার সংগীতে যোগ করেছে পশ্চিমা পপের প্রভাব।

নিজের দুই পরিবারের রান্নার রেসিপিও মিয়ার কাছে বিশেষ মূল্যবান। তার কাছে এগুলো শুধু খাবারের রেসিপি নয়; বরং শিকড় ও ঐতিহ্যের জীবন্ত স্মৃতি।

এ বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ই এখন তার ক্যারিয়ারের শক্তি বলে জানিয়েছেন এ সংগীতশিল্পী। ভিন্ন সংস্কৃতি ও সংগীতধারাকে একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করছেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়। তার প্রথম একক গান ‘হার্টলেস’, যেখানে দুইবার গ্র্যামি মনোনীত শিল্পী স্টিভ আওকি সহযোগিতা করেছেন, ইতোমধ্যে স্পটিফাইয়ে ১০ লাখের বেশি স্ট্রিম পেয়েছে। গানটি বিলবোর্ডে ৩১ নম্বরে অভিষেক করেছে এবং ভারতে বিশ্বে সর্বোচ্চ সেভ রেটও অর্জন করেছে।

নিজের ভিন্নতাকে বাধা না বানিয়ে মিয়া সেটাকেই পরিণত করেছেন সৃষ্টিশীলতার শক্তিতে। অ্যাডিলেড, টোকিও ও মেলবোর্নের অভিজ্ঞতা পেরিয়ে তার যাত্রা এখন বিশ্ব সংগীতের মঞ্চে। আর সেই যাত্রার মূল বার্তা একটাই, নিজের সব পরিচয়কে গ্রহণ করেই খুঁজে পাওয়া যায় নিজের ঠিকানা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .