২১-এ কিশোর হওয়ার স্বাদ
বেলা রামসের আক্ষেপ
আনন্দনগর ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোর বয়স মানেই যেন একটু বেপরোয়া হওয়া, নিয়ম ভাঙা আর নিজের মতো করে বাঁচার চেষ্টা। কিন্তু বিট্রিশ অভিনেত্রী বেলা রামসের কৈশোর কেটেছে অন্যরকমভাবে। মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘গেম অব থ্রোনস’-এ অভিনয়ে অভিষেকের পর কিশোর বয়সের বড় একটা সময় তিনি কাটিয়েছেন বড়দের সঙ্গে কাজ করে। ফলে সেই চেনা ‘বিদ্রোহী কিশোর’ হয়ে ওঠার সুযোগ তেমন হয়নি।
এখন ২১ বছর বয়সে এসে সেই অভিজ্ঞতাই যেন ফিরে পেলেন ব্রিটিশ এ অভিনেত্রী। নতুন সিনেমা ‘সানি ড্যান্সার’-এ অভিনয়ের জন্য সাত সপ্তাহ ধরে কিশোর চরিত্রের জীবনযাপন করতে হয়েছে তাকে। আর সেই অভিজ্ঞতা রীতিমতো উপভোগ করেছেন রামসে।
বিবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘২১ বছর বয়সে কিশোর হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম, যা দারুণ ছিল। সত্যিই ভালো লেগেছে, মনে হয়েছে যেন মুক্তি পেয়েছি।’
‘সানি ড্যান্সার’ সিনেমায় রামসে অভিনয় করেছেন আইভি চরিত্রে। ক্যানসার থেকে সেরে ওঠা এক তরুণী আইভি অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটি ‘কেমো ক্যাম্পে’ যায়। সেখানে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।
এ চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে নিজের কৈশোরের দিকে নতুন করে তাকিয়েছেন রামসে। তার উপলব্ধি, জীবনের সেই সময়টাকে হয়তো আরও একটু নিজের মতো করে উপভোগ করা যেত। ‘ইশ, কিশোর বয়সে যদি আরও একটু সুযোগ নিতাম, কিছু দুষ্টুমি করে পার পেয়ে যেতাম, আর একটু বিদ্রোহী হতাম,’ বলেন তিনি।
সিনেমাটির গল্পের পেছনেও রয়েছে বাস্তব জীবনের আবেগ। চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক জর্জ জ্যাকের মা যখন তিনি ১৫ বছরের, তখন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। সেই অভিজ্ঞতা চিত্রনাট্যে রূপ দিতে তার সময় লেগেছে আরও আট বছর। নিজের পরিবারের গল্প হুবহু না হলেও চরিত্রগুলোর মধ্যে নিজের জীবনের নানা অনুভূতি ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
সিনেমা নির্মাণের সময় ক্যানসার থেকে বেঁচে যাওয়া তরুণ এবং সন্তান হারানো অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলেন জ্যাক। তাদের অভিজ্ঞতা সিনেমাটিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
শুধু ক্যানসার নয়, শোক সামলানোর সামাজিক চাপও সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রামসে মনে করেন, মানুষ অনেক সময় নিজের কষ্টকে ছোট করে দেখাতে বাধ্য হয়। জ্যাকও বলেন, শোকের পর দ্রুত ‘স্বাভাবিক’ জীবনে ফিরতে সমাজের চাপ অনেক বেশি।
তরুণদের উদ্দেশে রামসের বার্তা তাই সরল, ‘মানিয়ে নিতে গিয়ে নিজেকে বদলে ফেলবেন না। এমন মানুষ আছে, যারা আপনার সঙ্গেই মানিয়ে নেবে।’
আর জ্যাকের প্রশ্ন, ‘আমরা তরুণদের ঘৃণা করা বন্ধ করি না কেন?’ তার মতে, তরুণদের বদলে যাওয়ার চাপ দেওয়ার আগে তাদের বুঝতে শেখাই হতে পারে পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।
