Logo
Logo
×
   

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭

লুকানো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

লুকানো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ

আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা কালো টাকা বিনাপ্রশ্নে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। তবে এজন্য আওয়ামী লীগ সরকারের মতো ‘বিশেষ কর’ সুবিধা দেওয়া হয়নি। নিয়মিত হারে কর দিয়ে অতীতে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত অর্থ রিটার্নে দেখানো যাবে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। নানা সমালোচনার মুখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তী সরকার এই সুযোগ বাতিল করে দেয়।

নতুন সরকার প্রথম বাজেটে কালো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ দিয়েছে। এজন্য আয়কর আইনে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃতমূল্য গোপন করলে তা রিটার্নে প্রদর্শন করতে পারবে। এজন্য তাকে ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তির প্রকৃতমূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য যা ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে যদি কোনো বিক্রেতা জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃতমূল্য গোপন করে থাকেন, তাহলে বিক্রেতাকে সম্পত্তির প্রকৃতমূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূলধনী কর দিতে হবে। এক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ক্রেতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে, প্রদেয় করের ২০ শতাংশ জরিমানা হিসাবে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি তিন বছর আগে ঢাকায় ২ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। কিন্তু দলিলমূল্য তিনি ৫০ লাখ ক্রয় দেখিয়েছেন। বাকি দেড় কোটি টাকার তথ্য গোপন করেছেন। প্রচলতি আইন অনুযায়ী, এই অপ্রদর্শিত অর্থই কালো টাকা। এই ব্যক্তি দেড় কোটি টাকা রিটার্নে প্রদর্শন করতে চাইলে তাকে ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে। আর আয়কর দপ্তর যদি ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য উদ্ঘাটন করে এবং করদাতা রিটার্নে এর ঘোষণা দিতে চায়, তবে তাকে আরও ৯ লাখ টাকা জরিমানা হিসাবে কর পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান বা বিক্রেতার ক্ষেত্রে দেড় কোটি টাকার ১৫ শতাংশ হারে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনী কর দিতে হবে। আর আয়কর দপ্তর যদি ফ্ল্যাটের প্রকৃত বিক্রয়মূল্য উদ্ঘাটন করে এবং তখন বিক্রেতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রিটার্নে এটি ঘোষণা দিতে চায়, তবে তাকে আরও সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। এই পদ্ধতিতে অতীতে বিনিয়োগ করা কালো টাকা প্রদর্শন করা হলে বাংলাদেশের প্রচলিত অন্য কোনো আইনে বিনিয়োগ বা ক্রয় বা অর্থপ্রাপ্তির উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। তবে স্বপ্রণোদিত ঘোষণার আগে বাংলাদেশের কোনো আদালত ঘোষণাকারীকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তি আইনের এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।

ঘটনাপ্রবাহ: বাজেট ২০২৬-২৭


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম