জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫টি সিম
ভোটের আগে সিমকার্ড কমিয়ে আনছে সরকার
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দেশে ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিপ্রতি মোবাইল সিম কার্ডের সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে একজন গ্রাহকের নামে ১০টির পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৫টি সিমকার্ড নিবন্ধনের সীমাবদ্ধতা কার্যকর করবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, অতিরিক্ত সিম ব্যবহারের পেছনে মূল কারণ অবৈধ নিবন্ধন। কিছু অসাধু বিক্রেতা গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করছেন।
সূত্রমতে, ১ জানুয়ারি থেকে কোনো গ্রাহক নতুন সিম নিবন্ধন করতে গেলে তার নামে ৫টির বেশি সিম থাকলে তিনি আর নতুন সিম নিতে পারবেন না। যাদের নামে বর্তমানে ১০টির বেশি সিম রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত সিমগুলো সংশ্লিষ্ট অপারেটরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করা হবে।
নির্বাচন-পূর্ব সময়ে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, মোবাইলকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ সিম নিবন্ধন বন্ধ করতেই এই কঠোর নীতির দিকে যাচ্ছে সরকার। রাস্তাঘাট ও ভ্রাম্যমাণ সিম বিক্রয়কেন্দ্রে কিছু অসাধু বিক্রেতা গ্রাহকের অজান্তেই বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন করছেন। ফলে একটি এনআইডির বিপরীতে একাধিক সিম নিবন্ধিত হলেও প্রকৃত গ্রাহক তা জানতেই পারছেন না।
বিটিআরসির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক একদিনেই দুটির বেশি সিম কিনছেন, যা প্রচলিত নিয়ম ও স্বাভাবিক ব্যবহারের সম্পূর্ণ বাইরে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাষায়, এটি ‘স্পষ্টভাবে অস্বাভাবিক’।
তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ২৬ কোটির বেশি হলেও সক্রিয় রয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ। এর মধ্যে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৬৭ লাখ গ্রাহকের নামে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম ছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো গ্রাহকের নামে পাঁচটির বেশি সিম থাকলে তিনি আর নতুন সিম রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না। এমনকি সিম রিপ্লেস বা পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রেও আগে অতিরিক্ত সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন করে সংখ্যাটি পাঁচের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। গত জুলাইয়ে এক ব্যক্তির নামে সিম নিবন্ধনের সীমা ১৫ থেকে দশে নামানোর পর এবার সেটি পাঁচে নামিয়ে আনা হচ্ছে।
