চলতি অর্থবছরের ৬ মাস
টাকা খরচে পিছিয়ে কৃষির ২০ প্রকল্প
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাকা খরচে পিছিয়ে রয়েছে কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের ২০টি উন্নয়ন প্রকল্প। অর্থাৎ এসব প্রকল্পের অগ্রগতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের গড় অগ্রগতি ১৯ দশমিক ৯৭ শতাংশের নিচে। এদিকে ৬১ প্রকল্পের মধ্যে ৪১টি রয়েছে এগিয়ে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ৫ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৬৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ অবস্থায় সার্বিকভাবে মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি সভায় কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। খরব সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওই সভায় অংশ নেওয়া সদ্য সাবেক কৃষিসচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, প্রকল্পের শুরুতেই যদি অগ্রগতির এ অবস্থা থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম। এক্ষেত্রে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ার শঙ্কা তো থেকেই যায়।
সভাসূত্র জানায়, গড় অগ্রগতির তুলনায় পিছিয়ে থাকা প্রকল্পগুলো হলো তেলজাত ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩১০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের ব্যয় ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ৫০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক টাকাও খরচ হয়নি। এছাড়া জগন্নাথপুর ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় দুটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ১৬৫ কোটি। ছয় মাসে খরচ হয়েছে ১৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৯৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর বরাদ্দ ৩০ কোটি, ছয় মাসে খরচ হয়েছে ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের মোট ব্যয় ১০৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ৩৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে খরচ হয়েছে ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ। টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৯৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ১৯৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে খরচ হয়েছে ২০ কোটি ৮১ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ। টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফর রিপারপাসিং অব অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক সাপোর্ট টুয়ার্ডস আ সাসটেইনেবল ফুড সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে ১২৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বা শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ। বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার-জরুরি প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়া প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৬০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ১১০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ছয় মাসে খরচ হয়েছে ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ। মানসম্পন্ন বীজ আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোরদাকরণ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৭২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে ৬১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে এক টাকাও খরচ হয়নি। জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিবীজ উন্নয়ন ও বর্ধিতকরণ প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ৮১ কোটি টাকা চলতি অর্থবছরে ২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ হয়েছে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বা ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বীজ বর্ধন খামার স্থাপন প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪৭৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে ৩৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ হয়েছে ৫০ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ। ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে টেকসই পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর ১৬২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ হয়েছে ১১ কোটি টাকা, বা ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। বিএডিসির বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণ ব্যবস্থাদির আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ২৯২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ২১১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ হয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, বা ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। আরও কয়েকটি প্রকল্প হলো-বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অবকাঠামো উন্নয়নসহ সক্ষমতা জোরদারকরণ, আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্র মাদারীপুরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর বরিশাল, ফরিদপুর অঞ্চলে ডালের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প। মেহেরপুর সদরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের মধ্য পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প। কৃষি বিপণন কার্যক্রম জোরদারকরণ, শস্যগুদাম আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন, নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণা কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং তুলার গবেষণা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্প। সূত্র জানায়, সভায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা দূর করে শতভাগ বাস্তবায়নের জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যেসব প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন, সেগুলোর যৌক্তিকতাসহ আইএমইডিতে দ্রুত প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে শেষ হওয়া নির্ধারিত প্রকল্পগুলো মান বজায় রেখে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

