Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

জ্বালানি সংকটের প্রভাব ধানের মূল্যে

মনে কমেছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা

আনু মোস্তফা

আনু মোস্তফা

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মনে কমেছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা

চলমান জ্বালানি সংকটে পরিবহণ চলাচল যেমন কমেছে, তেমনই বেড়ে গেছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ভাড়া। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য চালানে ভাটা পড়েছে। এ অঞ্চলের হাটবাজার ও মোকামে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকরা বলছেন, বাইরের জেলা থেকে ব্যাপারী আসছে না। এক হাট বা মোকাম থেকে পার্শ্ববর্তী জেলার হাটে বা মোকামে ধান নেওয়ার জন্য ছোট যানবাহনও ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এক মাসে রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ধানের দাম প্রতি মনে কমেছে ৩০০-৩৫০ টাকা। কোথাও কমেছে প্রতি মনে ৪০০ টাকা। ফলে কম দামে ধান বিক্রি করে তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এছাড়া যেসব চালকল মালিক রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় বড় মোকাম থেকে ধান কিনতেন, তারাও কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। কারণ, তারাও পরিবহণ সংকটে উত্তরাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাল পাঠাতে পারছেন না। জ্বালানি সংকটের সামগ্রিক প্রভাব পড়েছে কৃষকের ধানের ওপরে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি তথ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত আমন মৌসুমে দেশে ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ লাখ মেট্রিক টন আমন উৎপাদিত হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হয় নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুর জেলায়। এসব জেলায় ধান সংগ্রহ সহজলভ্য হওয়ায় চার শতাধিক স্বয়ংক্রিয় চালকল গড়ে উঠেছে। এসব চালকলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ধান ভেঙে চাল উৎপাদন করা হয়। ধানের চাহিদা থাকায় এ অঞ্চলের কৃষক কয়েক বছর ধরে উৎপাদিত ধানের ভালো দাম পেয়ে আসছেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় এক মাস ধরে পরিবহণ সংকট চলছে। আর এ কারণে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর বড় ধানের মোকামে ধানের দাম কমছে। কৃষকরা বলছেন, হাটবাজারে ও মোকামে ধানের ক্রেতা নেই। ব্যাপারী-ফড়িয়া নেই। আড়তদাররা ধান কিনছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আজিজুর রহমান জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খাতে কিছুটা অচলাবস্থা চলছে। শুধু ধানই নয়, উত্তর-পশ্চিমের জেলাগুলোয় উৎপাদিত শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য চালানেও কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি। বুধবার মোহনপুরের কেশরহাট বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আবু বাক্কার বলেন, প্রতি মন ধান যেখানে আগে ১৫শ-১৬শ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ১২শ-১৩শ টাকায়। তিন-চারশ টাকা করে কমে গেছে ধানের দাম। এমনকি চিকন ধানের দামও কমে গেছে। এর ফলে আমরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষিপণ্যের ওপরও। পরিবহণ সংকটের কারণে মোকামে ধান কিনে মিলে আনতে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যা ধানের দামের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে রাজশাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আল আমিন সরকার জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ চলাচল কমে গেছে। এর প্রভাব পণ্য চলাচলের ওপরও কিছুটা পড়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম