Logo
Logo
×

নগর-মহানগর

নকল রোধে হচ্ছে নতুন আইন, কক্ষে সিসি ক্যামেরা: শিক্ষামন্ত্রী

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নকল রোধে হচ্ছে নতুন আইন, কক্ষে সিসি ক্যামেরা: শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজশাহী অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে -যুগান্তর

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের পাবলিক পরীক্ষায় নকলের ধরন-পদ্ধতি বদলে গেছে। অতীতে মই বেয়ে ছাদে উঠে নকল দেওয়া হতো, খাতা বদলের ঘটনা ঘটত। কিন্তু বর্তমানে নকল হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এই নকল প্রতিরোধে প্রতিটি ক্লাসরুমে থাকতে হবে সিসি ক্যামেরা, জোরদার করা হবে মনিটরিং। এজন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন বর্তমান বাস্তবতায় কার্যকর নয়। ইতোমধ্যে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই তা বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।

শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে রাজশাহী মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ-সদস্য, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু এসএসসি বা এইচএসসি নয়, বিসিএস, ব্যাংক নিয়োগসহ সব ধরনের পরীক্ষাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করছি, যাতে কোথাও কোনো অনিয়ম না থাকে। নকল প্রতিরোধে অতীত ও বর্তমান স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে নকল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। সে সময় শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় নতুন কৌশল প্রয়োজন।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নজরদারি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম রোধে র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং চালু করা হবে। পরীক্ষকরা খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। গাফিলতি ধরা পড়লে পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংস্কার আনা হবে।

তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, পরীক্ষকরা খাতা দেখায় যথেষ্ট মনোযোগী নন, এমনকি অন্যের মাধ্যমে খাতা মূল্যায়নের ঘটনাও ঘটে। এসব বন্ধে আমরা কঠোর হব।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো যাবে না, পরীক্ষা হবে নির্ভয়ে। শিক্ষার্থীরা খাতায় যতটুকু লিখবে, ততটুকু নম্বর দিতে হবে। কোনো কোনো পরীক্ষক ভাড়া করা লোক দিয়ে খাতা দেখায় উল্লেখ করে মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কেউ ডিজিটাল জালিয়াতি করলে ডিজিটালিই ঠিক করা হবে। পরীক্ষকরা ঠিকমতো খাতায় নম্বর দিচ্ছেন কিনা নিজে স্যাম্পলিং করে দেখার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শিক্ষায় যে ধস নেমেছিল, অন্তর্বর্তী সরকার তা থেকে উত্তরণ ঘটিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। দিন দিন নৈতিকতা অবক্ষয় হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষায় প্রাকটিক্যাল নম্বর থাকলে কেউ আর শিক্ষকের সঙ্গে বেয়াদবি করবে না। সবাই নৈতিকতা শিখবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম