Logo
Logo
×

নগর-মহানগর

সিএমপিতে হালনাগাদ হচ্ছে সন্ত্রাসী তালিকা

Icon

আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের শেল্টারে বা তাদের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি চললেও বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে বা কোথাও কোথাও নেতাদের শেল্টারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে শুধু সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ নয়, রাখা হবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তৎপর পেশিশক্তি ব্যবহারকারী টেন্ডারবাজদের নামও। বিভিন্ন থানা- মহল্লা ভিত্তিক অপরাধীদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে।

অপরাধ দমনে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। সিএমপি সেই নির্দেশনার আলোকেই নগরীতেও সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কেট, কাঁচাবাজার, ঘাট, ফুটপাত, ভাসমান দোকানসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত চাঁদাবাজ ও পৃষ্ঠপোষকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে সংস্থ। চাঁদা কারা

তুলছে, কারা নেপথ্যে আছে, কারা পৃষ্ঠপোষক-সবার নামই তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা এই কাজে নিযুক্ত। এছাড়া অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও এ বিষয়ে কাজ করছে। দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

সিএমপি সূত্র জানায়, একাধিক ক্যাটাগরিতে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। মহল্লাভিত্তিক চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তাদের কারা লিড দেয় বা নেতৃত্ব দেয় তাদের নামও তালিকায় রাখা হচ্ছে। আবার তাদের কিশোর গ্যাং ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা তাদের নামও রাখা হচ্ছে। কিছু সন্ত্রাসী রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধ করছে। তাদের নামও তালিকার আওতায় আসবে। অনেকে চাঁদাবাজ রয়েছে যারা ভবন নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গেলে তাদের চাঁদা দিতে হয়। তাদেরকেও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে যারা বিভিন্ন সংস্থায় পেশিশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে টেন্ডার বাণিজ্য করছে তাদের নাম-পরিচয়ও তালিকায় যুক্ত করা হবে। চট্টগ্রামের শিল্প অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে খ্যাত বায়েজিদ বোস্তামী, নাসিরাবাদ, আকবর শাহ ও পাহাড়তলী এলাকা। বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ এবং নামধারী সন্ত্রাসীরা অপকর্মে জড়িত থাকলেও তাদের অনেকে এলাকা ছাড়া। এখন তাবে তাদের কেউ কেউ জার্সি বদল করে বিএনপির নামে করছে চাঁদাবাজি। এই চাঁদাবাজি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন গ্রুপ ও উপগ্রুপ। গ্রুপগগুলোর মধ্যে প্রতিনিয়তই ঘটছে সংঘাত-সংঘর্ষ। ১৮ জানুয়ারি ৩২৯ ‘দুষ্কৃতকারীর’ ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সিএমপি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এদের বেশির ভাগই চট্টগ্রাম নগরীতে অবস্থান করছে। আবার এর বাইরেও নতুন নতুন সন্ত্রাসীর আবির্ভাব ঘটছে এলাকায় এলাকায়। কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারও বেড়েছে নগরীর বিভিন্ন মহল্লায়। তালিকা তৈরি প্রসঙ্গে সিএমপির সিনিয়র সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, ‘চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরির বিষয়টি কনফিডেনশিয়াল বা গোপনীয়। এটি নিয়ে কথা বলা সমীচীন হবে না।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম