Logo
Logo
×

নগর-মহানগর

বিএডিসির ধান চাষ করে বিপাকে চাষিরা

Icon

কিশোরগঞ্জ ব্যুরো

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিএডিসির ধান চাষ করে বিপাকে চাষিরা

বিএডিসির ব্রি-৮৮ জাতের ধান চাষ করে বিপাকে পড়েছেন কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের বোরো চাষিরা। এ জাতের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান বিনষ্টের আশঙ্কায় বোরো ফসল নিয়ে চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) থেকে ব্রি-ধান ৮৮ জাতের বীজ নিয়ে জমি চাষ করে বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য বোরো চাষি। তাদের এ জাতের বীজের চারায় রোপণকৃত একই জমিতে দেখা দিয়েছে নানা জাতের ধান। এমনকি ইতোমধ্যে কোনোটা পেকে গেছে, কোনোটা আধা পাকা, আবার কোনোটিতে এখনো শিষই বের হয়নি। এছাড়াও একই গুচ্ছে দেখা যাচ্ছে নানারকমের ধান। এমন পরিস্থিতির শিকার বোরো চাষিরা কীভাবে ধান ঘরে তুলবেন, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তর হাওড়াঞ্চলের ‘গেটওয়ে’ হিসাবে পরিচিত কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ, তাড়াইল, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও বাজিতপুরের হাওড় জনপদে বিএডিসির ব্রি-৮৮ জাতের ধানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অস্বাভাবিক ফলনের বিরূপ প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে করিমগঞ্জ ও ইটনার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চাষিদের অভিযোগ, বীজে মিশ্রণ থাকায় সব ধান একসঙ্গে পাকছে না। ফলে সময়মতো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের বড় হাওড় এলাকা পরিদর্শনকালে এমন সব অভিযোগের সত্যতাও মিলে।

করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের মদন গ্রামের কৃষক আবদুস ছোবহানের (৬৫) সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘১৩ কানি (৩৫ শতাংশে ১ কানি) জমিত বিএডিসির ৮৮ জাতের ধান করছি। ধান তো শুরুতে চেনা যায় না। অহন আমার খেতে অর্ধেকেও ৮৮ ধান নেই। বাকি ধানগুলো চার-পাঁচ জাতের হইছে। কুনুডা পাইক্যা গেছে, কুনুডার হগলে দুধ আইছে। কুনুডার শিষ অহনও কাঁচা। অহন আমি ধান ক্যামনে কাটবাম। কোনডা কাডবাম। ধারকর্জ কইরা চাষ করছি। কমপক্ষে ৪০০ মন ধান অইলো অইলে। অহন ১০০ মন ফাইয়াম কি না সন্দেহ। অহন আমার এ ক্ষতিপূরণ কেলা দিব।’

কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাওড় জনপদে যারা এবার বিএডিসি থেকে বীজ এনে ব্রি ধান-৮৮ চাষ করেছেন, তাদের সবার জমিরও একই অবস্থা। কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলাগুলোর মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও বলছেন, অন্তত ১০ হাজার হেক্টর পরিমাণ জমিতে এরকম অবস্থা দেখা দিয়েছে। এবার এ অঞ্চলের বোরো চাষিরা বিএডিসির ব্রি-ধান-৮৮-এর বীজের চারা রোপণ করে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধান চাষ হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ব্রি-ধান-৮৮ চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে। করিমগঞ্জে বড়হাওড়সহ বেশকিছু হাওড়ে এবং হাওড় উপজেলা ইটনাসহ কয়েকটি উপজেলায় এ সমস্যা দেখা গেছে। কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, সমস্যা শুনে কৃষি কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠিয়েছিলাম। তারাও ব্রি-ধান-৮৮-এর বীজে মিশ্রণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এতে ব্যক্তিপর্যায়ে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বিএডিসি সূত্র জানায়, বোরো চাষের জন্য মৌসুমের শুরুতে এবার প্রায় ৩৭০ টন ব্রি-ধান ৮৮ জাতের বীজ সরবরাহ করেছে তারা। পরে আরও ৩১৮ টন বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।

বিএডিসির কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন দাবি করেন, তারা বিষয়টি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন কোথা থেকে এমন সব বীজ কৃষকদের হাতে গেল। কোনো ডিলার যদি কৃষকদের বিএডিসির প্যাকেটে নকল বীজ দিয়ে থাকে, আমরা তাও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। আর বিএডিসি যেসব জায়গা থেকে বীজ সংগ্রহ করে, সেখান থেকে এমন সমস্যা হলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জ বিএডিসি উপপরিচালক (বীজ উৎপাদন) হারুনুর রশীদ বলেন, ন্যাচারাল মিউটেশনের কারণে একই ফসলের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া সার ও সেচ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি, বেশি বয়সের চারা রোপণ কিংবা বীজের উৎসে ত্রুটি থাকলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম