খুমেক হাসপাতাল
নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চরম ভোগান্তি দেখার যেন কেউ নেই
আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ওয়াশরুমের অবস্থা বেহাল। যা বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক) যেন এখন ময়লার ভাগাড়। হাসপাতালটির ভেতরে-বাইরে ময়লার স্তূপ। চারপাশে ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা। একদিকে চলছে চিকিৎসকদের রোগী সুস্থ করে তোলার লড়াই, অন্যদিকে ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধে ছড়াচ্ছে জীবাণু। চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের চলতে হচ্ছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্য দিয়ে। পায়ে পায়ে ছড়াচ্ছে মানববর্জ্য।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি ৫০০ শয্যার জনবল কাঠামোতে চলছে। অথচ এই হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে তিনগুণেরও বেশি। সেই তুলনায় নেই ন্যূনতম স্যানিটেশনব্যবস্থাও। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অধিকাংশ বাথরুমই অকেজো, কোথাও দরজা নেই, কোথাও পানির অভাব, আবার কোথাও উপচে পড়ছে মলমূত্র। বাথরুম থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধে চলাচলই দায় হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় পরিচালকের রুমের সামনে দিয়ে গেলেই প্যাথলজি, রক্ত পরিসঞ্চালন কক্ষ ও ক্যানটিন। এর সামনেই রয়েছে দুইটি বাথরুম। দুটির মধ্যে একটি সব সময় বন্ধ থাকে। অন্যটির দরজা নষ্ট। বাথরুমের কমোড উপচে পানি আসছে মেঝেতে। সেখানে আসা রোগীর স্বজনদের নাকে কাপড় চেপে তবেই চলাচল করতে হচ্ছে। ঠিক ওপর তলায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। অপর পাশে অপারেশন থিয়েটার। সেখানেই দুটি বাথরুম। অপারেশন থিয়েটার এবং আইসিইউ-এর সামনে রোগীর আত্মীয়স্বজনের লম্বা লাইন। দুর্গন্ধ নিয়েই মানুষের চলাচল পুরো ইউনিটটিতে। পুরো হাসপাতালে পায়ে পায়ে ছড়িয়ে পড়ছে মলমূত্র। এমন চিত্র সার্জারি, মেডিসিন, প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন ইউনিটে। সব ইউনিটের বাথরুম নষ্ট। এমন দুরবস্থা দেখার যেন কেউ নেই। সিজার অপারেশনের রোগী নাহার জানান, এক সপ্তাহ রয়েছি। চারপাশে এত নোংরা যে দুর্গন্ধে শুয়ে থাকা দায়। বাধ্য হয়ে আগরবাতি জ্বালিয়ে রেখেছি।
জানা যায়, হাসপাতালটিতে গত এক সপ্তাহে রোগী ভর্তির হার ছিল গড়ে ১৬শ জন। রোগীর আত্মীয়স্বজন মিলে প্রায় ৫ হাজার মানুষ চলাচল করে হাসপাতালটিতে। এই বিপুল পরিমাণ মানুষের জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার হাল অত্যন্ত নাজুক। এত নোংরা পরিবেশ ও সমস্যার মধ্যেও হাসপাতালটিতে সেবা দেওয়া হয় বিশ্বমানের। প্রতিদিন সেখান থেকে গড়ে ২শ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। আন্তঃবিভাগের পাশাপাশি বহির্বিভাগেও স্যানিটেশনব্যবস্থা খারাপ। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১৪শ রোগী আসে চিকিৎসা নিতে। তাদের সঙ্গে আত্মীয়স্বজন মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষের আগমন ঘটে হাসপাতালটিতে। নারী, শিশু, যুবক-সবাইকেই কোনোমতে টয়লেটের কাজ সারতে হয় নোংরা পরিবেশে। এই দুরবস্থার বিষয় নিয়ে হাসপাতালটির পরিচালনা পর্ষদেরও কোনো মাথাব্যথা নেই। সংস্কারের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বলে না যে এত সমস্যা। আপনার মাধ্যমে খোঁজ পেয়েছি অবশ্যই মেরামত করব।
হাসপাতালের এমন নোংরা পরিবেশের পাশাপাশি প্রকট হয়ে উঠেছে যন্ত্রপাতির সংকট। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অন্তত ৩৮৬টি জরুরি চিকিৎসা যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। রেডিওলজি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়রা থেকে আসা নাজেরা বেগম বলেন, ডাক্তার সিটি স্ক্যান করতে বলেছে, কিন্তু এখানে হচ্ছে না। বাইরে যেতে বলছে।
হাসপাতাল পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ নোংরা হওয়া এবং টয়লেট সমস্যার বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তবে এগুলো সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট নেই। অচল যন্ত্রপাতির তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
