সাক্ষাৎকারে এবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
টাকা তুলতে এসে কেউ খালি হাতে ফেরত যাননি
রিয়াজুল ইসলাম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের প্রথম বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবি ব্যাংক পিএলসি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে ব্যাংকটি। দীর্ঘ এই পথচলায় সুনাম-দুর্নাম কমবেশি দুটোই কুড়িয়েছে, তবে কখনো ভেঙে পড়েনি। এবি ব্যাংকে টাকা তুলতে এসে কেউ কখনো খালি হাতে ফেরত যাননি। তাই আস্থায় রেখেছে গ্রাহক। ভরসা পেয়েছে লেনদেনেও। এসব কথা জানান ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম। সম্প্রতি যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাংকের নানা দুর্বলতার পাশাপাশি সফলতার কথাও তুলে ধরেন। এ সময় তিনি সাফ জানিয়ে দেন-আর কোনো বড় ঋণ নয়, ন্যানো লোনে এগোতে চান। যেখানে হারানোর কিছুই নেই, প্রাপ্তি ছাড়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-হামিদ বিশ্বাস
যুগান্তর : এবি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছর, কিছু বলুন।
রিয়াজুল ইসলাম : ১৯৮২ সালে যাত্রা শুরু করে প্রথম প্রজন্মের এবি ব্যাংক। ঋণ বিতরণ ও আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকের অবস্থান বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেকটা সন্তোষজনক। প্রযুক্তির দিক থেকেও অনেক অগ্রসর হয়েছি। গত দুই বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এ ব্যাংক নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। তবে সবচেয়ে বড় অর্জন গ্রাহকের আস্থা ও ভরসা। যা বড় প্রাপ্তিও। এটাই মূল চালিকাশক্তি।
যুগান্তর : এবি ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলুন।
রিয়াজুল ইসলাম : পুরো ব্যাংক খাত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। তবে গত দেড়-দুই বছর আগে এ খাত যে অবস্থায় ছিল, এখন আর সেই অবস্থায় নেই। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। অন্যান্য ব্যাংকের মতো এবি ব্যাংকও চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিল। তবে অন্য দুর্বল ব্যাংকের মতো এবি ব্যাংকে টাকা তুলতে এসে কেউ কখনো ফেরত যাননি। এমনকি যখন দেশে ডলার সংকট ছিল, এলসি বন্ধ ছিল, তখনো এর কোনো প্রভাব ব্যাংকে পড়েনি।
বর্তমানে সারা দেশে ১০৪টি পূর্ণাঙ্গ শাখা, ৬০টি উপ-শাখা এবং ২৬৪টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ২৫৫টি এটিএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহকদের আধুনিক ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে এবি ব্যাংক।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের মুম্বাইয়ে একটি শাখা, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে একটি প্রতিনিধি অফিস এবং হংকংয়ে নিজস্ব মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারি এবি ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেড পরিচালনা করছে। এর বাইরে কলকাতায় একটি শাখা খোলার অনুমোদন পাওয়া গেছে। এছাড়া ব্যাংকের পাঁচটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট এবং কাস্টোডিয়াল সার্ভিসও অন্তর্ভুক্ত, যা আর্থিক খাতে ব্যাংকের সামর্থ্যকে করেছে আরও বিস্তৃত।
যুগান্তর : কী এমন ভিন্নতা আছে, যা দেখে এবি ব্যাংকের সেবা গ্রহণ করবে গ্রাহক?
রিয়াজুল ইসলাম : এবি ব্যাংক ফার্স্ট জেনারেশনের প্রথম সারির ব্যাংক, যেটি ৪৪ বছর ধরে আধুনিক সেবা দিয়ে আসছে। তার পণ্য ও সেবার গুণমানের বিষয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণ। ব্যাংকে অনুপ্রাণিত এবং উদ্যমী কর্মকর্তারা রয়েছেন, যারা নতুন ব্যবসা অর্জন করতে সক্ষম। সর্বোপরি এটি একটি পুরোনো ব্র্যান্ড। এছাড়া ব্যাংকের দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ একটি ভালো করপোরেট সুশাসন বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
যুগান্তর : কী কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন?
রিয়াজুল ইসলাম : উচ্চ খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি এবং তারল্য সংকট।
যুগান্তর : উত্তরণের উপায় কী?
রিয়াজুল ইসলাম : খেলাপি ঋণ আদায়ে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে চাইলেই বড় খেলাপিদের কাছ থেকে মুহূর্তে টাকা আদায় করা সম্ভব নয়। এখানে আইনি জটিলতা আছে। সেই জটিলতা ভাঙতে সময় লাগে। তবে ছোট ছোট গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য একটি টাস্কফোর্স ও বিশেষ পুনরুদ্ধার দল গঠন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে ফলোআপ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ খেলাপি ঋণ কমানো হয়েছে। চলতি বছরে আরও কমানো হবে। আর খেলাপি ঋণ কমে আসলেই প্রভিশন ঘাটতি কমে আসবে। মূলধন ঘাটতিও সমন্বয় করা হবে। গ্রাহকের আস্থা-বিশ্বাস ফিরে এলে তারল্য সংকট থাকবে না।
যুগান্তর : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
রিয়াজুল ইসলাম : ন্যানো লোন বা ছোট ছোট ঋণ কর্মসূচি চালু করতে চাই। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ৫, ১০, ১৫, ২০ হাজার টাকার ঋণ। এই ঋণ চলাচল করবে মুঠোফোন থেকে মুঠোফোনে। কোনো কাগজের ব্যবহার থাকবে না। এজন্য অত্যাধুনিক সফটওয়্যার লাগবে। এসব ঋণে কোনো ঝুঁকি নেই। প্রধান টার্গেট জেন-জি। যারা ব্যাংকে আসতে চান না। ঝামেলা ছাড়া মুঠোফোনে লেনদেন করতে চান। দেশের ভবিষ্যৎ এরাই। এছাড়া এখনই রিটেইল ব্যাংকিংয়ের জন্য উপযুক্ত সময়। জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য এসএমই খাত অপরিহার্য। এখন এসএমই ও রিটেইলে গুরুত্ব দিচ্ছি। কার্ড, ডিজিটাল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং বাড়ানো, উপশাখা বাড়ানোর বিষয়ে ফোকাস করছি। এতে ব্যাংকের তহবিল খরচ কমবে। ব্যাংকিং সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

