Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

আজ যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সাজসাজ রব সেই উলাশী গ্রামে

ইন্দ্রজিৎ রায়

ইন্দ্রজিৎ রায়

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সাজসাজ রব সেই উলাশী গ্রামে

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী-যদুনাথপুর খাল খনন ও পুনঃখননের দুটি নামফলক। প্রথমটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম নামাঙ্কিত (ডানে)। দ্বিতীয়টি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের -যুগান্তর

পাশাপাশি দুটি নামফলক। প্রথমটি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর-উত্তম নামাঙ্কিত। দ্বিতীয়টি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। দুটি ফলকের ব্যবধান পাঁচ দশক। একজন শুরু করেছিলেন, আরেকজন সেই ধারাবাহিকতা পুনর্জাগরণে উদ্যোগী হয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে উলাশী-যদুনাথপুর খালে অনেক পানি গড়িয়েছে। দেশের রাজনীতিতেও বাঁকবদল হয়েছে। প্রায় ৫০ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে পিতার দেখানো পথেই হাঁটলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৯৭৬ সালের পহেলা নভেম্বর নিজ হাতে কোদাল তুলে নিয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী-যদুনাথপুর খাল খননকাজ উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্বেচ্ছাশ্রমে এই খাল খনন কর্মসূচি সফল হওয়ায় ১৯৭৭ সালে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়; যা দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ হিসাবে বিবেচিত হয়। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিহাসের পাতায় পিতা-পুত্রের নন্দিত এই উদ্যোগ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সাজসাজ রব পড়েছে উলাশী গ্রামে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত সেই খালপাড় নতুন সাজে সেজেছে। স্থানীয়দের মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষায় উলাশী গ্রামবাসী। প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত তারা।

জানা যায়, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলে দলে মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে খাল উলাশী-যদুনাথপুর খননে অংশ নেন। ৬ মাসে খননকাজ সম্পন্ন হয়। ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল খাল উদ্বোধন করেন জিয়াউর রহমান। এই খাল খনন কর্মসূচি সফল হওয়ায় দেশের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রাপতি জিয়াউর রহমান প্রথম উলাশী-যদুনাথপুর খাল খনন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেন। এটি শুধুই খাল খনন কর্মসূচি ছিল না। তার এই উদ্যোগ ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার জন্য কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বাবার স্মৃতিবিজড়িত সেই উলাশীর খাল পুনঃখননকাজ উদ্বোধন করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগমনে যশোরবাসী আনন্দিত।’

জেলা প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর বিমান বন্দরে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে সরাসরি যাবেন জেলার শার্শা উপজেলার উলাশীতে। এরপর উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে পুনঃখননস্থলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন। সেখান থেকে ফিরে বেলা সোয়া ১টায় যশোর শহরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দুপুর দেড়টায় প্রধানমন্ত্রী যশোরের পৌনে দুইশ বছরের প্রাচীন ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন। এরপর যশোর সার্কিট হাউজে নামাজ ও দুপুরের খাবারের বিরতির পর বিকাল সাড়ে ৩টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে যশোর ছাড়বেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে যশোর শহরে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি। বাস, প্রাইভেট, মাইক্রো ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে ৫ হাজারের মতো যানবাহনে আসবে মানুষ। এজন্য ১০টি পার্কিং স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আশায় বুক বেঁধেছেন যশোরবাসী। তার সফর যশোরসহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে-এমনটিই আশা সবার।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর যশোর আগমন উপলক্ষ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) অগ্রবর্তী দল যশোর পৌঁছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করছে।’

রোববার সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জনসভাস্থল পরিদর্শনে যান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় তিনি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব নিয়ে খুলনা বিভাগে প্রথম আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যশোরবাসী হিসাবে আমরা গর্বিত। প্রধানমন্ত্রীর যশোর আগমন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। তার আগমনের মধ্য দিয়ে যশোরের উন্নয়নের চাকা সচল হবে।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম