যশোরের রাজারহাট মোকাম
সরকার নির্ধারিত দাম না মেলায় চামড়া উঠেছে কম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে জমেনি ঈদ পরবর্তী হাট। সীমিত সংখ্যক চামড়া নিয়ে ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা হাজির হলেও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়নি। তাই মৌসুমি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা চামড়া লবণযুক্ত করে গুদামে সংরক্ষণ করছেন। পরবর্তী হাটে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির আশায় এই চামড়া সংরক্ষণ করছেন তারা। এদিকে ট্যানারি ব্যবসায়ী ও তাদের প্রতিনিধিরা মোকামে আসছেন না। তাই বাজারে কোনো প্রতিযোগিতা নেই। এই হাটে প্রতিবার ঈদে কয়েক কোটি টাকার চামড়া হাতবদল হলেও এবারের ঈদ পরবর্তী হাটের চিত্র ছিল হতাশাজনক। বাজারে তেমন চামড়া উঠেনি। যারা চামড়া নিয়ে এসেছেন তাদের দাবি-বাজারে এসে তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। মান ও আকারভেদে গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। আর ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস মাত্র ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। ফলে চামড়া কেনা, লবণ দেওয়া ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
মৌসুমি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পিরোজপুর থেকে ১১৫ পিস চামড়া নিয়ে এসেছি। পাইকাররা চামড়ার দাম বলেছে মানভেদে ৩শ থেকে এক হাজার টাকা। হাটে বাইরের ক্রেতা নেই বললেই চলে। এতে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। বাইরের কোনো ক্রেতা না থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে চামড়া কম দামে বিক্রি হচ্ছে। আরেক ব্যবসায়ী বিকাশ দাস বলেন, হাটে ১৩৬ পিস ছাগলের চামড়া নিয়ে এসেছি। প্রতি পিস গড়ে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তিনি জানান, বাড়িতে আরও গরুর চামড়া পড়ে আছে, পরের হাটে আনব কিনা, সেটিও বুঝতে পারছি না। লবণ, শ্রমিকের মজুরি ও যাতায়াত খরচ মিলিয়ে কোনোভাবেই পোষাচ্ছে না। কলারোয়ার ব্যবসায়ী কবিরুল ইসলাম বলেন, সরকার গরুর চামড়ার মূল্য ৫৭ থেকে ৬২ টাকা ফুট নির্ধারণ করলেও বাজারে ৪০ টাকা ফুটেও বেচাকেনা হচ্ছে না। বাবুরাম দাস নামে আরেক বিক্রেতা জানান, গ্রাম থেকে ৪০০ টাকা করে গরুর চামড়া কিনেছি। প্রতি চামড়ায় ১০০ টাকা করে লবণ খরচ হয়েছে। অথচ, হাটে এসে সেই চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে মান ভেদে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায়। তাই গাড়ি ভাড়া ও নিজের শ্রমের মূল্য ধরলে পুরোটাই লোকসান। ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ২০০ পিস ছাগলের চামড়া নিয়ে এসেছিলাম। সবচেয়ে ভালো চামড়াটি বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায়। বাকি চামড়াগুলো এখন বিক্রি করছি ৭০ টাকায়। বাসায় ৩০০ পিস গরুর চামড়া আছে। সামনের হাটে আনব। তবে দাম এভাবে কমতে থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আড়তদার আব্দুল মালেক বলেন, ব্যবসায়ীরা চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন। বাজার পরিস্থিতি দেখতে কিছু চামড়া এনেছেন। শনিবার হাটে চামড়ার আমদানি বাড়বে। যেসব চামড়ার দাম কম, সেগুলোর অনেক বিষফোড়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। না বুঝে এসব চামড়া কেনার কারণেই লোকসানের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি লবণ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় চামড়া সংরক্ষণের খরচও বেড়েছে। এ খাতকে রক্ষা করতে সরকারের আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। হাটের ইজারাদার রাজু আহমেদ বলেন, হাটে চামড়ার আমদানি কিছুটা কম হয়েছে। চামড়া সংগ্রহ, লবণ দেওয়া এবং সংরক্ষণের উপযোগী হতে কয়েকদিন সময় লাগে। তাই অনেক ব্যবসায়ী এখনো চামড়ার গাঁট ভাঙেননি। হয়তো আগামী হাটে চামড়ার আমদানি বাড়বে এবং বাইরের ক্রেতারাও আসবেন। তখন বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে।

