খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
নামেই আছে ক্যানসার বিভাগ মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা
রোগীদের দুর্ভোগ চরমে
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অসহায় ক্যানসার রোগীদের অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল। শুধু খুলনা বিভাগই নয়, বরিশাল ও রাজশাহী থেকেও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন জীবন বাঁচানোর আশায়। কিন্তু ব্লাড ক্যানসার বাদে অন্যান্য ক্যানসারের প্রাথমিক চিকিৎসা মিললেও, চরম জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটে ভুগছে এই বিভাগটি।
এখানে নেই কোনো রোগীকে ভর্তি রেখে (ইনডোর) চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা। তীব্র শয্যা সংকট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব সত্ত্বেও, আউটডোরে প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার রোগীকে কোনো রকমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ইনডোর সেবা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
এখানে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, খুমেক হাসপাতালের ক্যানসার বিভাগে কেমোথেরাপির সমস্যা প্রকট। অনেক সময় কেমোথেরাপি দেওয়ার পরেও রোগীদের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ পরিবর্তন হচ্ছে না। রোগীরা অভিযোগ করেন, ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে কেমোথেরাপি বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে পাওয়া গেলেও, খুলনায় রোগীদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। পাশাপাশি দূর থেকে এসে প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। তাই অবিলম্বে খুলনায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার পাশাপাশি সরকারিভাবে বিনামূল্যে কেমোথেরাপির দাবি জানান তারা। এই সংকটের কথা স্বীকার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যানসার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. মুকিদুল হুদা বলেন, ‘খুলনা ছাড়াও বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগ থেকে রোগীরা এখানে আসেন। ব্লাড ক্যানসার বাদে বাকি রোগীদের আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিই। কিন্তু এখানে রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। অবকাঠামো বা প্রয়োজনীয় মেশিনপত্র না থাকার পরও আমরা বছরে প্রায় দুই হাজার রোগীকে সেবা দিচ্ছি। যেহেতু আমাদের নিজস্ব ইনডোর নেই, তাই জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে খুলনা মেডিকেলের অন্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে ভর্তি রেখে আমরা এখানে ট্রিটমেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করি।’
তবে আশার কথা হচ্ছে, পাশেই চলছে বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালের নির্মাণ কাজ। ডা. মুকিদুল হুদা জানান, হাসপাতালটির ভবন নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ সব কাজ পুরোপুরি শেষ হতে আরও ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগতে পারে। ততদিন পর্যন্ত রোগীদের কষ্ট লাঘবে বর্তমান বিভাগটিতে দ্রুত শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও কেমোথেরাপির খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

