Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

বিএসইসি’র অধীন কোম্পানিতে হরিলুট

শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার

শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিএসইসি’র অধীন কোম্পানিতে হরিলুট

বাংলাদেশ ইস্পাত প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) আওতাধীন বিভিন্ন কোম্পানির পুরোনো, অকেজো স্ক্র্যাপ মালামাল বিক্রির নামে রীতিমতো হরিলুট চলছে। নিয়ম উপেক্ষা করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কোটি কোটি টাকা মূল্যের মালামাল পানির দরে দেওয়া হচ্ছে। এতে কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। সেনাকল্যাণ সংস্থা, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে এসব স্ক্র্যাপ কেনা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো তৃতীয়পক্ষের হাতে স্ক্র্যাপ তুলে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ব্যক্তিগত লাভের আশায় সরকারি সম্পদ বিক্রিতে নীতিমালার তোয়াক্কা করছে না।

জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (জিইএমকো) ১৫ কোটি টাকা মূল্যের স্ক্র্যাপ ৩ কোটি টাকায় বিক্রির পর একই পথে হাঁটছে সরকারি আরেক প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেবলস লিমিটেড (ইসিএল)। নগরীর পতেঙ্গায় অবস্থিত এই কোম্পানিও কেবলস, মেশিনারিজসহ বিভিন্ন মালামাল ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় বিক্রির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

কোম্পানির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিবিএ সংশ্লিষ্টরা শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। এমনকি মূল্যায়ন কমিটিও আপত্তি করেছে। বিএসইসি চেয়ারম্যান দপ্তর থেকে নীতিমালা লঙ্ঘন করে পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে আসছে। সূত্র জানায়, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মালামাল বিক্রি করার কথা বলা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) বা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এতে সরকারি মালামাল বিক্রিতে প্রতিযোগিতামূলক দর পাওয়া যাচ্ছে না।

ইস্টার্ন কেবলস কারখানার ২২ ধরনের মালামাল, রাবার এক্সট্রোডার মেশিন, পিভিসি এক্সট্রোশন মেশিনসহ ২৯ ধরনের মেশিন বিক্রির জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫৬ টাকা। সেনাকল্যাণ সংস্থা এসব মালামালের দর দিয়েছে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ৬ টাকা। এই মূল্যেই মালামালগুলো দরদাতাকে দেওয়ার জন্য অনুমোদন হয়েছে। মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ইসিএল ইনসুলেটেড কপার স্ক্র্যাপের প্রতি কেজির মূল্য ধরেছে ৫৫০ টাকা। অথচ এই স্ক্র্যাপের বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা। রেয়ার কপার স্ক্র্যাপের প্রতি কেজির মূল্য ধরেছে ৮৫০ টাকা। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি কেজি ১ হাজার ৭০০ টাকা। এই দুই ধরনের মালামাল আছে ১৬ হাজার ১৬৬ কেজি। ডেমেজ এইচটি ক্যাবলস ও ডেমেজ এলটি ক্যাবলসের প্রতি কেজির বাজারমূল্য বর্তমানে ১ হাজার টাকা। সংস্থা নির্ধারণ করেছে ৫৫০ টাকা। এই দুই শ্রেণির মালামাল আছে ৩৬ হাজার কেজি। এভাবে প্রায় প্রতিটি মালামালের মূল্য বাজারমূল্যের কম ধরা হয়েছে।

ইস্টার্ন কেবলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মালেক মোড়ল যুগান্তরকে বলেন, হাইপাওয়ার কমিটি দিয়ে স্ক্র্যাপ মালামালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম পাওয়ায় সেনাকল্যাণ সংস্থার কাছে মালামালগুলো বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি।

উন্মুক্ত দরপত্র নীতিমালা লঙ্ঘন করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দর পাওয়া না গেলে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা ডিপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কোম্পানিতে এ ধরনের নজিরও আছে।

এর আগে জিইএমকো ১৫ কোটি টাকা মূল্যের স্ক্র্যাপ মালামাল মাত্র তিন কোটি টাকায় বিক্রি করে। যদিও কর্তৃপক্ষ এই মালামাল নিয়ম মেনেই বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে। ডিপিএম পদ্ধতিতে সেনাকল্যাণ সংস্থা নেগোসিয়েটেড দরপ্রস্তাব দিয়ে জিইএমকোর এই মালামাল কিনলেও তাদের এক চিঠিতে দেখা গেছে, মালামালগুলো তৃতীয় আরেকটি প্রতিষ্ঠান-ট্রেড লিংক ইন্টারন্যাশনালকে সরবরাহ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটাই হচ্ছে শুভঙ্করের ফাঁকি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে সরকারি সংস্থা নীতিমালা লঙ্ঘন করছে; অন্যদিকে পানির দরে কিনে নেওয়া মালামাল তৃতীয়পক্ষের হাতে তুলে দিচ্ছে। এতে করে সিন্ডিকেট ও পাবলিক কোম্পানি লাভবান হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম