Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

সাবস্টেশনের অভাব

উপকূলের ২০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ নিয়ে দুর্ভোগে

Icon

আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

উপকূলের ২০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ নিয়ে দুর্ভোগে

সুন্দরবনঘেরা উপকূলীয় জনপদ কয়রা, পাইকগাছা, আশাশুনি ও তালা উপজেলা। এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা। এসব দুর্ভোগের সঙ্গে যোগ হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট। দিনের মধ্যে ১২-১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে উপকূলের মানুষ। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। পাইকগাছায় একটি গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণের অভাবে এই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ নিজস্ব কোনো গ্রিড সাবস্টেশন না থাকা এবং প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের সাতক্ষীরা গ্রিডের ওপর নির্ভরশীলতা। অন্যদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার কথা বলা হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

কয়রা উপজেলার আমিনুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টি বা বাতাস হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক সময় রাতভর অন্ধকারে থাকতে হয়। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। আশাশুনি উপজেলার রবিউল হক বলেন, সাতক্ষীরা থেকে এতদূর বিদ্যুৎ আনতে গিয়ে সমস্যার শেষ নেই। একটা ফল্ট হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণে বিলম্বের কারণেই সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, বর্তমানে সাতক্ষীরা গ্রিড সাবস্টেশন থেকে আশাশুনি হয়ে ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই দীর্ঘ লাইনের বড় অংশই নদী, খাল, বিল ও বিস্তীর্ণ চিংড়ি ঘেরের মাঝখান দিয়ে গেছে। পুরো লাইনের অধিকাংশ কাঠামো পুরোনো কাঠের পোল ও কাঠের ক্রস-আর্মের ওপর নির্মিত। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অনেক স্থানে ইনসুলেটর দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইনসুলেটর ফেটে গেলে কাঠের ক্রস-আর্মে আগুন ধরে যায়। কোথাও কোথাও ক্রস-আর্ম ভেঙে লাইনের তার ছিঁড়ে পড়ে। ফলে হঠাৎ করেই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

সমস্যা আরও জটিল হয় কোনো ত্রুটি দেখা দিলে। কারণ ৩৩ কেভি লাইনে কাজ করতে হলে সাতক্ষীরা গ্রিড থেকে শাটডাউন নিতে হয়। কয়রা থেকে সাতক্ষীরা গ্রিডে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ লাইনে ত্রুটির স্থান খুঁজে বের করার কাজ। দুর্গম পরিবেশের কারণে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায় ত্রুটি শনাক্ত করতেই।

কয়রা জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে ৩৩ কেভি লাইনের প্রায় ৫০ শতাংশ ক্রস-আর্ম ও ইনসুলেটর পরিবর্তনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশের কাজও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাইকগাছায় একটি গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে প্রায় সাত বছর আগে। এত দীর্ঘ সময় পরও সাবস্টেশনটি নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ব্যবস্থাপক তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, কয়রা, পাইকগাছা, আশাশুনি ও তালা অঞ্চলে কোনো গ্রিড সাবস্টেশন নেই। সাতক্ষীরা থেকে বিদ্যুৎ এনে এত বড় এলাকায় সরবরাহ করা অত্যন্ত কঠিন। দূরত্ব বেশি হওয়ায় ভোল্টেজ কমে যায়। আবার গাছপালা ও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ঘন ঘন দুর্ঘটনাও ঘটে। এসব কারণে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য ঢাকায় আলাদা দপ্তর আছে। বর্তমানে ওই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই কার্যক্রম শুরু হলে স্টেশন নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে। সাবস্টেশন নির্মাণের বিষয় নিয়ে খুলনা-৬ আসনের সংসদ-সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রীসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম