ডিজির ‘অন্যায্য’ হস্তক্ষেপ
চট্টগ্রাম সমবায়ে বদলি কার্যক্রমে অসন্তোষ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক (ডিজি) সেলিম ফকির চট্টগ্রামের সমবায় কর্মকর্তাদের ওপর খড়্গহস্ত হয়েছেন। চট্টগ্রামে একটি সমবায় সমিতির কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হওয়ার পর ঢাকায় ফিরে বদলি কার্যক্রম চালান। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘অন্যায়ভাবে’ বদলি করায় চট্টগ্রামের সমবায় কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, ১৬ মে চট্টগ্রাম জেলা সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে ডিজি সেলিম ফকির একটি সমিতির কার্যক্রম পরিদর্শনে যান। এ সময় তার সঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক নাজিম উদ্দিন হায়দার ছিলেন। এতে সমিতির লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে দুই কর্মকর্তা আহত হন। দৌড়ে গাড়িতে উঠে সেলিম ফকির নিজেকে আত্মরক্ষা করেন। তবে তাকে বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এরপর ঢাকায় গিয়ে তিনি চট্টগ্রামে সমবায় কর্মকর্তাদের ওপর খড়্গহস্ত হন। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে বদলি করতে থাকেন।
চট্টগ্রামের সাধারণ সমবায় কর্মকর্তারা জানান, ডিজি সেলিম ফকির বহিরাগতদের রোষের শিকার হয়েছেন। অথচ নিরীহ কর্মকর্তাদের ওপর তিনি ঝাল মেটাচ্ছেন। জেলা সমবায় কর্মকর্তাসহ দুই কর্মকর্তার বদলি এবং একজনকে প্রত্যাহার না করেই একই জায়গায় আরেকজনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২২ জুন এক আদেশে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোসলেহ উদ্দিনকে ময়মনসিংহে বদলি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ মো. সজীবের স্বাক্ষরে এ আদেশ জারি করা হয়। সমবায় অধিদপ্তরের ডিজির দেওয়া তালিকা অনুসারে তাকে বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এছাড়া পাঁচলাইশ থানা সমবায় কর্মকর্তা মমতাজ বেগমকে চন্দনাইশ উপজেলা সমবায়ে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানা সমবায়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ সেখানকার আবু বকরকে বদলি বা প্রত্যাহার করা হয়নি। এ কারণে একই পদে দুজন রয়েছেন। এদিকে জেলা সমবায় কর্মকর্তা আহমদ হোসেনকে ময়মনসিংহে বদলি করার একদিন না যেতেই ২৩ জুন তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। অভিযোগ-একজনেরও বদলির সময় হয়নি। সাধারণত এক জায়গায় পদায়নের পর তিন বছর হলে তাকে বদলি করা হয়। গুরুতর অভিযোগ না থাকলে বদলির সুযোগ নেই। অথচ আলোচ্য দুই কর্মকর্তার কর্মস্থলে থাকার সময় এক থেকে দেড় বছর।
হামলা ও পরবর্তী সময়ে কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে জানার জন্য সমবায় ডিজি সেলিম ফকিরকে ফোনে দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত সেলিম ফকির বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তাকে ১ অক্টোবর ওএসডি করা হয়। পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসাবে নিযুক্ত হন। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৪ মার্চ তাকে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক হিসাবে পদায়ন করা হয়। কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক নাজিম উদ্দিন হায়দারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার একাধিক মামলা রয়েছে। সমবায়ের আওতাধীন মিল্কভিটার পরিচালক ছিলেন তিনি।
১৬ মে মৎস্যজীবী সমিতির আওতাধীন কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ফিসল্যান্ডিং সেন্টার পরিদর্শনে যান সমবায় ডিজি সেলিম ফকির। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে সমবায়ের দুই কর্মকর্তা মাহবুবুল হক হাজারী ও আশীষ কুমার আহত হন। অভিযোগ-আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন হায়দারকে নিয়ে কর্মসূচি পালনের খবর পেয়ে সমিতির লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালায়। এ ঘটনায় ১৭ মে বাকলিয়া থানায় মামলা করা হয়। মামলায় আতিক মাঝি, এয়াকুব খাঁ, ওমর ফারুকসহ আটজনকে আসামি এবং আরও ২৫-৩০ জনকে অজ্ঞাতানামা আসামি করা হয়।

