Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স

রাফি হত্যার চূড়ান্ত বিচার সাত বছরেও শেষ হয়নি

হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করা হয় রাফিকে * ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত

আলমগীর মিয়া

আলমগীর মিয়া

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাফি হত্যার চূড়ান্ত বিচার সাত বছরেও শেষ হয়নি

ফেনীর মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। এ হত্যা মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই হত্যার সাত বছর পেরিয়েছে এপ্রিলে। কিন্তু আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দ্বিতীয় ধাপে হাইকোর্টের শুনানি এখনো শেষ হয়নি। উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) শুনানি আটকে থাকায় এখন বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। এ মামলার চূড়ান্ত বিচার নিয়ে হতাশা আর শঙ্কায় দিন কাটছে নুসরাতের পরিবারের।

২০২০ সালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক (যাবতীয় নথি) ছাপানো শেষ করা হয়। ২০২০ সালের ২ মার্চ রাফি হত্যার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি শাহেদ নূরুদ্দিনের বেঞ্চে এ মামলার শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বেঞ্চটি পরবর্তীকালে ভেঙে গেলে শুনানি আটকে যায়। ২০২৩ সালে নভেম্বরে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল এবং জেল আপিল হাইকোর্টের ওপর একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় দেখা যায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। ওই বেঞ্চে ১৬ আসামির মধ্যে সাতজনের ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষ হয়েছে। বাকি ৯ আসামির শুনানি শেষ হলে আদালত রায় ঘোষণার পর্যায়ে যেতে পারেন। তবে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে বেঞ্চ গঠন ও শুনানির ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এদিকে ১০ জুন নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যাসংক্রান্ত আলোচিত মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নুসরাত হত্যা মামলাটি শুনানির জন্য ওই বেঞ্চের তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে কবে নাগাদ শুনানি হবে, তা নির্দিষ্ট করে মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলতে পারছেন না।

ওই বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে ২০১৭, ১৮ ও ১৯ সালের ডেথ রেফারেন্স শুনানি চলছে। রাফির মামলাটি এ বেঞ্চের তালিকায় রয়েছে, ধারাবাহিকভাবে মামলাটি শুনানির জন্য আসবে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে কারও মৃত্যুদণ্ড হলে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এছাড়া আসামিরা জেল আপিল ও কয়েকজন আপিল করেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বিচারের দ্বিতীয় ধাপে হাইকোর্টের রায়ের পর সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আপিল আবেদন করতে পারবেন। বিচারের তৃতীয় ধাপে চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ। রায়ে দণ্ড বহাল থাকলে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবেন সংক্ষুব্ধরা। আপিল বিভাগ সেই আবেদন নিষ্পত্তি করলে কারাবিধি অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ।

সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়ার বাড়িটিতে এখনো পুলিশ পাহারা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে বাড়িটি পাহারা দিচ্ছে পুলিশ। তবে পরিবারের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসামিপক্ষের স্বজনদের নানা হুমকিতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে রয়েছেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ফেনী জেলা কারাগার সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন ফেনী জেলা কারাগারে আছেন। তাদের একজন মাকসুদ আলম; অন্য মামলায় হাজিরা থাকায় তাকে সেখানেই রাখা হয়েছে। বাকি আসামিরা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন কারাগারে আছেন।

আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, মামলাটি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে তালিকায় রয়েছে। এর আগে অন্য একটি বেঞ্চে আংশিক শুনানি হয়েছিল। আশা করছি শিগগিরই এ মামলার আপিল শুনানি সম্পন্ন হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম