Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় ১০ লাখ রোগী

ছানিজনিত দৃষ্টি সমস্যায় ৮০ শতাংশ মানুষ

প্রতিবছর নতুন রোগী বাড়ছে ১ লাখ ৩০ হাজার * প্রতি ৮৩৩ রোগীর বিপরীতে একজন চক্ষু সার্জন

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ছানিজনিত দৃষ্টি সমস্যায় ৮০ শতাংশ মানুষ

দেশে মানুষের অন্ধত্বের প্রায় ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশের জন্য দায়ী চোখের ছানিজনিত সমস্যা। যেখানে বিশ্বব্যাপী এ হার ৫১ শতাংশ। প্রতিবছর নতুন করে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ছানি রোগী যুক্ত হচ্ছেন, আর বর্তমানে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। মঙ্গলবার ‘ছানি সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত আলোচনায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটার‌্যাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস) আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্যবিষয়ক) ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শওকত কবিরের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ছানি সচেতনতা মাস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. নজরুল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধে বিএসসিআরএসের মহাসচিব ডা. মইন উদ্দিন জানান, দেশে বর্তমানে চোখের ছানিজনিত দৃষ্টি সমস্যায় অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। প্রতি ৮৩৩ জন অপেক্ষমাণ রোগীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন সার্জন। দেশে চক্ষু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ জন, যা আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় ৪ ভাগের ১ ভাগ। তিনি আরও জানান, দেশে আনুমানিক ৪০ হাজার অন্ধ শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার শিশু চিকিৎসাযোগ্য হলেও এখনো তারা সে সুবিধা পায়নি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ছানি এখনো বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীই সম্পূর্ণ বা প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্বে অন্ধত্বের প্রায় ৫১ শতাংশের কারণ ছানি হলেও বাংলাদেশে এ হার প্রায় ৮০ শতাংশ। সরকার এখন চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তকরণের ব্যবস্থা জোরদার করা হবে, যাতে চোখের রোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা যায়। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ছানি অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিরাপদ, কার্যকর এবং দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করছে। তাই দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেলে ভয়, কুসংস্কার বা অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিএসসিআরএস জানায়, ছানি সচেতনতা মাস উপলক্ষ্যে জুনজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি, বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভা, চোখ পরীক্ষা ক্যাম্প এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .