চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যাহত পণ্য হ্যান্ডলিং
১০ হাজার নিলামযোগ্য কনটেইনারের স্তূপ
প্রতিদিন খালি পড়ে থাকে তিন হাজার * আইনি জটিলতা, কাস্টমসের হয়রানি, ব্যবসায়ীদের কারসাজির জের
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিলামযোগ্য পণ্যভর্তি ১০ হাজার কনটেইনার এবং ৩ হাজারের মতো খালি কনটেইনার নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব কনটেইনার বন্দরের বিশাল জায়গা দখল করে থাকায় পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া দ্রুত পণ্য নিলাম না হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। আইনি জটিলতা, নিলাম প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, কাস্টমসের হয়রানি, অযাচিত হস্তক্ষেপ, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিসহ নানা কারণে নিলামযোগ্য কনটেইনারের স্তূপ জমেছে। বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও শেডে এসব কনটেইনার পড়ে আছে। একইভাবে পণ্য খালাস শেষে খালি কনটেইনারও দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) আলোচ্য দুই শ্রেণির কনটেইনারের স্তূপ সরানোর ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। একটি চিঠিতে নিলাম প্রক্রিয়া সহজ করাসহ নিলামযোগ্য কনটেইনার সরিয়ে বন্দরের জায়গা খালি করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। অপর চিঠিতে খালি কনটেইনার ‘কাস্টমস বন্ডেড এরিয়া’র বাইরে রাখার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মো. আমিরুল হকও এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বরাবরে চিঠি দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে যে ১০ হাজার নিলামযোগ্য কনটেইনার পড়ে আছে সেগুলো আমদানি করা হয়েছিল ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। অর্থাৎ প্রায় এক যুগ আগে আনা পণ্যও আমদানিকারকরা খালাস নেননি। এসব কনটেইনারে আস্ত গাড়ি থেকে শুরু করে ফলমূল, রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। রয়েছে সিরামিক পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, ভোগ্যপণ্যসহ নানা ধরনের আমাদানির পণ্য। পরিমাণে যা ২ লাখ টনের মতো। এসব পণ্যের আর্থিকমূল্য ৮ হাজার কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, কখনো মিথ্যা ঘোষণা বা জালিয়াতির মাধ্যমে আনার অভিযোগে এসব পণ্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটকে দিয়েছে। কখনো বা আমদানি পণ্যের দাম দেশীয় বাজারে পড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকরাই সেই পণ্যভর্তি কনটেইনার খলাস নেননি।
বর্তমানে নিলাম পণ্যভর্তি কনটেইনার ও খালি কনটেইনার পড়ে থাকায় বন্দরের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা দখল হয়ে আছে। কাস্টমসের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়, নৌ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিলামযোগ্য পণ্য তালিকাভুক্ত করতে অর্ধশত জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কাস্টমস কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে প্রতিদিন শুল্কায়ন শেষে আমদানি পণ্য খালাসের পর কিছু কনটেইনার খালি হয়। খালি কনটেইনারের কিছু চলে যায় বেসরকারি ডিপোতে। এর পরও প্রতিদিন ৩ হাজার খালি কনটেইনার পড়ে থাকে বন্দরের জেটিতে। বন্দর ও চেম্বারের চিঠিতে বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই হয়। বর্তমানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণজনিত চাপের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের উৎপাদনশীলতা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ানো যাচ্ছে না। খালি কনটেইনারগুলো বন্ডেড এরিয়ার (কাস্টমসের শুল্কায়ন সম্পর্কিত এলাকা) বাইরে রাখার অনুমতি পাওয়া গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনারের চাপ কমবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খালি কনটেইনার বন্ডেড এরিয়ার বাইরে রাখার উদাহরণ রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম যুগান্তরকে বলেন, কনটেইনারগুলো সরানোর ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে আমি মন্ত্রণালয়, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

