১০০ একর জায়গা চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের চিঠি
চট্টগ্রামের জঙ্গলসলিমপুরে হবে আধুনিক কারাগার
সন্ত্রাসীদের দখল থেকে মুক্ত করার পর উদ্যোগ
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের সন্ত্রাসকবলিত জঙ্গলসলিমপুরে অত্যাধুনিক কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কারাগার নির্মাণের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি হবে দেশের প্রথম আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন কারাগার। শুধু কারাগার নয়, এখানে থাকবে সংশোধনাগারও। ইতোমধ্যে ১০০ একর জায়গা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।
কারা সূত্র জানায়, বর্তমান চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দিদের বসবাসের পরিবেশ অত্যন্ত অনুপযোগী ও অস্বাস্থ্যকর। ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ বন্দি থাকায় সেখানে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আধুনিক কারাগার নির্মাণ সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। এ লক্ষ্যে জঙ্গলসলিমপুরে সরকারি জমি থেকে ১০০ একর জায়গা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় তিন হাজার একরের বেশি সরকারি জমি রয়েছে। প্রস্তাবিত কারাগারে বন্দিদের জন্য পাঠাগার, সংশোধনাগার, আত্মকর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণকেন্দ্র, শরীরচর্চা কেন্দ্র, স্পোর্টস জোন ও ধর্মীয় উপাসনালয় থাকবে। প্রতি বন্দির থাকা-খাওয়ার জন্য ৭০ থেকে ১০০ বর্গফুট জায়গা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
জঙ্গলসলিমপুরে কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে পরিবেশের ক্ষতি না করে এবং বসতি উচ্ছেদ না করেই পরিকল্পিতভাবে কারাগার নির্মাণের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ২০২২ সাল থেকে জঙ্গলসলিমপুর ঘিরে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর, স্পোর্টস ভিলেজ ও ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণসহ নানা পরিকল্পনা ছিল। সন্ত্রাসীদের বাধায় কয়েকদফা অভিযানও ব্যর্থ হয়। কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলার শিকার হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে হামলায় এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত এবং তিনজন আহত হন।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের ৯ মার্চ জঙ্গলসলিমপুরে বড় অভিযান চালানো হয়। এতে সন্ত্রাসীদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়।
সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ডের জঙ্গলসলিমপুরের জালালাবাদ মৌজায় ১ নম্বর খাস খতিয়ানের বিএস ৭২৯ দাগে ৯ দশমিক ৭০ একর এবং বিএস ৭৭১ দাগে ২ দশমিক ৯৪ একর পাহাড়ি জমি সরেজমিন পরিমাপ করে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে লাল পতাকাও টানানো হয়েছে। এসব খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড়ি জমি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নামে বিএস জরিপে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জঙ্গলসলিমপুরে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নাইট সাফারি পার্ক করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ইকোট্যুরিজমের উন্নয়ন, পর্যটনশিল্পের বিকাশ, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।
চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘আধুনিক কারাগার নির্মাণের লক্ষ্যে আমরা ১০০ একর জায়গা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। আশা করি সবকিছু ইতিবাচক আছে। শিগ্গিরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’
