Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা

দায় স্বীকারের পর নতুন গল্প ফজলুর

Advertisement

Icon

আবির হোসেন, ইবি

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দায় স্বীকারের পর নতুন গল্প ফজলুর

Advertisement

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলাকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করা আসামি ফজলুর রহমান কারাগারে গিয়ে অবস্থান পুরোপুরি বদলে ফেলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সে দাবি করেছে- ‘দুই মুখোশধারী ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’ তবে তদন্তে পাওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার সঙ্গে তার দাবির কোনো মিল নেই।

গত ৪ মার্চ সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে খুন হন বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা। ঘটনার পর কর্মচারী ফজলুকে ওই কার্যালয়ে ভেতর থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই সময় সে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান ইবি থানায় ফজলুর রহমানসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন-বিভাগের সাবেক উপ-রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলুরকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। সুস্থ হওয়ার পর ১ এপ্রিল তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলু লিখিতভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে। লিখিত বক্তব্যে সে বদলিজনিত ক্ষোভ ও হতাশা থেকে শিক্ষিকা রুনাকে হত্যা করেছে বলে উল্লেখ করে। তবে কারাগারে যাওয়ার পর সেই সেই বক্তব্য থেকে সরে এসেছে। এখন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি সূত্রে জানা যায়, কারাগারে গিয়ে কমিটির সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা ফজলুর সাক্ষাৎকার নেন। লিখিত উত্তরে ফজলু দাবি করে, সে শিক্ষিকা রুনার কক্ষে গিয়ে দেখে, দুই মুখোশধারী ব্যক্তি রুনাকে ছুরিকাঘাত করছে। বাধা দিতে গেলে তারা তাকেও আঘাত করে পালিয়ে যায়। এরপর সে অচেতন হয়ে পড়েন। তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফজলুর এই দাবি সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনাস্থলের আলামতের সঙ্গে মেলে না। ফুটেজে ঘটনার সময় ফজলু ছাড়া অন্য কাউকে বিভাগে ঢুকতে দেখা যায়নি। ফজলুর কক্ষে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই রুনার ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শোনা যায়।

ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফজলু তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তু নিয়ে বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে রুনার কক্ষের দিকে যায়। দুই মিনিট পর রুনার চিৎকার শুনে নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখানে তারা রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। ফজলু তখন নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিল।

এদিকে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্যরা জানান, মুখোশধারীদের উপস্থিতির কথা দাবি করা হলেও তারা কীভাবে ভেতর থেকে বন্ধ কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল এবং দরজা কে বন্ধ করল?-এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি ফজলু।

ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানূর রহমান বলেন, ‘আসামি অভিযোগ অস্বীকার করবে-এটাই স্বাভাবিক। তবে তার বক্তব্য, তদন্তে পাওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামতের সঙ্গে মিলছে কিনা, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া সে অনেকগুলো বিষয়ের সদুত্তোর দিতে পারেনি।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে। আসামি দায় অস্বীকার করলেও তদন্তে তার প্রভাব পড়বে না। ঘটনাস্থলের ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত সিআইডিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলেই চার্জশিট দাখিল করা হবে।’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্য প্রার্থীদের বাতিলের প্রতিবাদে ইবিতে শিবিরের বিক্ষোভ

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্য প্রার্থীদের বাতিলের প্রতিবাদে ইবিতে শিবিরের বিক্ষোভ

টাকা ভাংতি না দেওয়ায় মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

টাকা ভাংতি না দেওয়ায় মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

বিয়ে হয়নি ইবির সেই প্রেমিক যুগলের

বিয়ে হয়নি ইবির সেই প্রেমিক যুগলের

নড়াইলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে নিহত ১

নড়াইলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে নিহত ১

২ হামাস যোদ্ধাকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

২ হামাস যোদ্ধাকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চেয়ে বাবার সঙ্গে তর্ক, পরে গুলি করে হত্যা

ভারত প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চেয়ে বাবার সঙ্গে তর্ক, পরে গুলি করে হত্যা

আরও পড়ুন

গুলিস্তানে ঢাকা ট্রেড সেন্টার অবৈধ ‘ছাদ বাণিজ্যে’ পকেটে কোটি টাকা

অবৈধ ‘ছাদ বাণিজ্যে’ পকেটে কোটি টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চা চাষ পতিত জমি থেকে সবুজ বিপ্লব

পতিত জমি থেকে সবুজ বিপ্লব

ডিজিএফআই পরিচয়ে ৩২ লাখ টাকার মাল লুট ‘গোপন সমঝোতায়’ থমকে আছে তদন্ত

‘গোপন সমঝোতায়’ থমকে আছে তদন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় মারধর ও চাঁদা দাবি

র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় মারধর ও চাঁদা দাবি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম