Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

সাগর-রুনী হত্যা

নতুন ক্লু, তদন্তে নতুন গতি টাস্কফোর্সের

ইমন রহমান

ইমন রহমান

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন ক্লু, তদন্তে নতুন গতি টাস্কফোর্সের

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার-মেহেরুন রুনী হত্যা মামলার তদন্ত নতুন করে গতি পেয়েছে। এ মামলার তদন্তে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করে সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় ছিল বলে জানা গেছে।

তবে রোববার সাগর সরওয়ার-রুনী হত্যা মামলা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আনেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অন্য মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হঠাৎ সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়ে যায় বলে জানান তিনি। আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার ঘটনা নিয়ে সাবেক মেজর মোজাফফর হোসেনের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। এ রকমই সাগর-রুনীর ব্যাপারেও ক্লু পেয়েছি।

জানা গেছে, প্রসিকিউটরের এ বক্তব্যের পরই নড়েচড়ে বসেছে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্স। এর মূল দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার পিবিআইর তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নতুন করে তদন্তে গতি এনেছেন। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করে পিবিআইর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে যে যে বিষয় আগের তদন্তে ‘টাচ’ করা হয়নি সেগুলোকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। নতুন যে বিষয়টি সামনে এসেছে তার তথ্য চেয়েছি। তদন্তের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমার নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এদিকে নতুন তথ্য সামনে আসার পর খুনিদের শনাক্তের বিষয়ে আশাবাদী সাগর-রুনীর স্বজনরা। মামলার বাদী রুনীর ভাই নওশের আলম যুগান্তরকে বলেন, রোববার আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গিয়েছিলাম। তারা বলেছে, এখন পর্যন্ত যা বলেছেন কোনো কিছু প্রমাণের বাইরে বলেননি। তাদের কথায় আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। ট্রাইব্যুনালে নতুন করে অভিযোগ করব। এজন্য কাগজপত্র প্রস্তুত করছি।

তিনি আরও বলেন, মিডিয়া রোকেয়া প্রাচীর কথা বলছে। ঘটনা আরও বড়। পিবিআই কী করে দেখি। এরপর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেব।’

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন সাংবাদিক সাগর-রুনী দম্পতি। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনী ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনীর ভাই নওশের আলম। কিন্তু সরকারের আশ্বাসের মধ্যেই সীমিত থেকেছে তদন্ত কার্যক্রম। একে একে ব্যর্থ হয়েছে থানা পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাব। দিনের পর দিন পেছানো হয়েছে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ, যা বর্তমানে ১২৯ বারে ঠেকেছে। তৎকালীন সরকার সাগর-রুনী হত্যার বিচারে টালবাহানা করেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সরকারের ইন্ধনেই ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এমন অভিযোগও ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

হত্যাকাণ্ডের এ মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানায় ছিল মাত্র ৪ দিন। এরপর ডিবি পুলিশে যায় মামলা। ডিবি ৪ মাস তদন্ত করে। ডিবি বেশ কয়েকজনকে হেফাজতেও নেয়। ডিবির তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয় সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে। এরপর ডিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা যায় র‌্যাবে। সেখানে টানা ১২ বছর চলে তদন্ত। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক পিবিআই-প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের তদন্তে এখনো এসব বিষয় আসেনি। তদন্ত অব্যাহত আছে।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম