Logo
Logo
×
   

Advertisement

নগর-মহানগর

লক্ষ্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি

সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ

Advertisement

Icon

হুমায়ুন কবির

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

সামুদ্রিক সম্পদকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কক্সবাজারে ‘ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি’ (ইউবিইএসটি) নামে বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে রামুতে ৪০ দশমিক ৬২ একর জমিতে ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিওআরআই) অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারে সমুদ্র ও উপকূলকেন্দ্রিক বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ-সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটারে ইউবিইএসটি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দিয়েছেন। ওই প্রস্তাবে বিওআরআই’র অবকাঠামো ও জনবল কাজে লাগিয়ে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হয়েছে। পরে মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে প্রস্তাব পাঠিয়ে যাচাই-বাছাই করে মতামতও চাওয়া হয়েছে। ইউজিসির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, সমুদ্রসম্পদ রক্ষা ও এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া সমুদ্রের তলদেশে কী কী সম্পদ রয়েছে, সেগুলোর পরিমাণ ও সম্ভাবনা কতটুকু এবং কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এসব সম্পদ কাজে লাগানো যায়-এসব বিষয়ে গভীর গবেষণার প্রয়োজন। এ বিশ্ববিদ্যালয় সেই গবেষণার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি মৎস্য, জলজ প্রাণীর স্বাস্থ্য, সামুদ্রিক জীবপ্রযুক্তি ও উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে দেশের সমুদ্র অর্থনীতির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে এর ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে কক্সবাজারে নীল অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিওআরআই’র বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করা হলে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমানো সম্ভব। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ-সদস্য লুতফর রহমান কাজলের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতেও কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে জমা দিয়েছেন। ওই প্রস্তাবেও বিওআরআই’র অবকাঠামো ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান, উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক তথ্যবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মৎস্য ও জলজ চাষ, সামুদ্রিক জীবপ্রযুক্তি, লবণ উৎপাদন, সামুদ্রিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নৌযান নির্মাণ, সমুদ্র আইন, শাসনব্যবস্থা এবং সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে।

সোমবার চীন-বাংলাদেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ব্লু-ইকোনমি নিয়ে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি বাংলাদেশের অন্যতম বড় সম্পদ। বাংলাদেশের ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন রয়েছে এবং এক লাখ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত এ সমুদ্র এলাকায় বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র অর্থনীতি ও সার্কুলার ইকোনমিকেন্দ্রিক বিশেষায়িত গবেষণায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। চীনা গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রথম পর্যায়ে ৪৫ থেকে ৬০ জন পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগসহ বিওআরআই’র বিজ্ঞানীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব না দিয়ে জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের অতিথি শিক্ষক হিসাবে সীমিতভাবে যুক্ত করা এবং বিওআরআই’র বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ ৭০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রস্তাবে বলা হয়েছে।

আগে থেকেই আছে সমুদ্রবিষয়ক উচ্চশিক্ষা : সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে সমুদ্রবিজ্ঞান ও সামুদ্রিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আগে থেকেই রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ রয়েছে। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতেও সামুদ্রিক ও মেরিটাইম বিষয়ে বিশেষায়িত শিক্ষা দেওয়া হয়। এগুলোও কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম