পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর, সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন কাম্য
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে ড. খলিলুর রহমানের প্রথম ভারত সফরের দিকে স্বভাবতই বিশেষ দৃষ্টি ছিল অনেকের। লক্ষণীয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন চলছিল, তা নিরসন করে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে উভয় দেশই।
দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা জরুরিও বটে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার এসেছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর। জানা যায়, তার এ সফরকালে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও উভয়পক্ষের সুবিধার ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আগামীতে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দুই পক্ষই। তবে এ সফরে বাংলাদেশের বড় অর্জন হিসাবে দেখা হচ্ছে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যায় ভারতে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে দিল্লির সম্মতিকে।
এছাড়া বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা আরও সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর। বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কানেক্টিভিটি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে।
বস্তুত ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কের টানাপোড়েন দূর করাই এখন দুই দেশের প্রধান লক্ষ্য। তবে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি এবং সীমান্ত হত্যার মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে আছে। একটি টেকসই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঅধিকার। ভারত আমাদের বৃহত্তম প্রতিবেশী এবং বন্ধুরাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত। তবে সেই বন্ধুত্বের পূর্ণতা পেতে হলে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার দাবিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে ‘ফলপ্রসূ’ রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে কার্যক্ষেত্রে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর এবং ঢাকা-দিল্লি বৈঠকের সাফল্য নির্ভর করবে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসাবে তার সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে ভারতের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যেতে চায়। আমরা আশা করব, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কে যে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পারস্পরিক আস্থার সংকট দূর করে স্বচ্ছতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতেই গড়ে উঠুক আগামীর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক।
