অধ্যাদেশ নিয়ে জটিলতা
জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে আইনে রূপান্তর না-হওয়া বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় এবং সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগসহ ওই অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি স্বীকার করেছেন, গুমের সংজ্ঞা ও বিচার প্রক্রিয়ায় অস্পষ্টতা রয়েছে। এগুলো রেখেই তা আইনে রূপান্তর করা হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সরকারের এ অবস্থানটি একদিকে যেমন আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের চেষ্টা, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান জনমত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে একটি সতর্ক পদক্ষেপ হিসাবেও প্রতীয়মান হচ্ছে।
ওই ১৬টি অধ্যাদেশ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সরকারের নেই। বিরোধী দল বলছে, সরকার সংস্কার কার্যক্রমে আন্তরিক নয়। অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, অধ্যাদেশগুলো আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করে আনা হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায়, কেন এসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এখনো ঝুলে আছে? কেন সংসদে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হলো না? এ প্রেক্ষাপটে যদি এই ১৬টি অধ্যাদেশ যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া সরাসরি আইনে পরিণত করা হয়, তবে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আবার এগুলো নিষ্পত্তি না করলে সরকার আইনি ও রাজনৈতিকভাবে ‘ফেঁসে’ যেতে পারে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাও অমূলক নয়। কারণ, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আমরা মনে করি, যে কোনো আইন কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক জোরে পাশ না করে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা বাঞ্ছনীয়। সরকার যদি এই ১৬টি অধ্যাদেশ নিয়ে সত্যিই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়, তবে ১৫ মে’র পর শুরু হতে যাওয়া আলোচনাসভায় সব পক্ষের যৌক্তিক প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা এড়াতে এই অধ্যাদেশগুলোর একটি সম্মানজনক ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তিই এখন সময়ের দাবি। সরকারের সদিচ্ছা যেন কেবল কথাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং এর প্রতিফলন যেন আইনি কাঠামোর প্রতিটি স্তরে দৃশ্যমান হয়। ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বৈধতা অর্জন করা দুরূহ।
