Logo
Logo
×
   

সম্পাদকীয়

পাহাড়ে অশান্তির ছায়া

উদাসীনতায় সার্বভৌমত্বের সংকট কাম্য নয়

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাহাড়ে অশান্তির ছায়া

সবুজ পার্বত্য চট্টগ্রামের আড়ালে গড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা, যেখানে আইনের শাসন নয়, অস্ত্রের শক্তিতে নির্ধারিত হচ্ছে মানুষের ভাগ্য। রোববার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, পাহাড়ি প্রকৃতির আড়ালে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সংঘাত, অপহরণ ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। উদ্বেগের বিষয়, এমন ভয়াবহ বাস্তবতাকে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মানতে নারাজ। তাদের মতে, পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই। বরং হত্যা, ছিনতাই কিংবা চাঁদাবাজি-কোনো অপরাধই সমতলের তুলনায় বেশি নয় বলে দাবি তাদের। বলা বাহুল্য, পার্বত্য অঞ্চলের এই অরাজকতাকে সমতলের সাধারণ অপরাধের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করে যখন দায় এড়ানো হয়, তখন তা প্রশাসনিক উদাসীনতাকেই নির্দেশ করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব তথ্যই বলছে, গত এক বছরে পাহাড়ে ১০৫টি সশস্ত্র সংঘর্ষে প্রাণ গেছে ২৬ জনের, অপহৃত হয়েছেন ৪৮ জন। এসব সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মূলে রয়েছে বছরে ১,০৫৪ কোটি টাকার বিশাল অংকের চাঁদাবাজি। অভিযোগ আছে, জেএসএস, ইউপিডিএফ কিংবা কেএনএফের মতো আঞ্চলিক দলগুলো কৃষক, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও চালকদের কষ্টার্জিত অর্থ লুটে নিয়ে সংগঠনকে পরিচালিত করছে, অস্ত্রের ভাণ্ডার ভারী করছে। দুর্গম সীমান্ত ব্যবহার করে মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গে যোগসাজশে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ পর্যন্ত নিচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এমন তথ্য দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসাবেই গণ্য হওয়ার কথা। ভীতি ও অনিশ্চয়তায় সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবন যেখানে জিম্মি। চাঁদা না দিলে বন্ধ হয় উন্নয়নকাজ, এমনকি যেসব সদস্য বর্তমানে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেও আতঙ্কে দিন কাটাতে বাধ্য হন; সেখানে রাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের তৎপরতাকে স্থানীয় প্রশাসনের খাটো করে দেখার প্রবণতা অমার্জনীয়।

আমরা মনে করি, পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে প্রশাসনকে আগে এই সংকটের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে হবে। সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাজার কোটি টাকার অবৈধ চাঁদাবাজির অর্থপ্রবাহ বন্ধে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। পাশাপাশি মিয়ানমার সীমান্তে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করে অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ পথ চিরতরে বন্ধ করতে হবে। আত্মসমর্পণকারীদের পূর্ণাঙ্গ আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। সবুজের পেছনের এই রক্তক্ষয় বন্ধে সরকার শূন্য-সহনশীল নীতি গ্রহণ করে পাহাড়ে শান্তি নিশ্চিত করবে, এটাই প্রত্যাশা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .