Logo
Logo
×
   

সম্পাদকীয়

বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় গলদ, মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় গলদ, মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩১ রাউন্ড তাজা গুলিসহ এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর একাধিক নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে বিমানে উঠে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও বিস্ময়কর। বিমানবন্দরের প্রবেশপথ, হেভি লাগেজ স্ক্যানিং থেকে শুরু করে চূড়ান্ত সিকিউরিটি চেক-কোনো স্তরেই এই বিপজ্জনক গোলাবারুদ শনাক্ত না হওয়া বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থার ভঙ্গুরতাকেই প্রকাশ্যে এনেছে। বিষয়টি শাহজালাল বিমানবন্দরে ধরা না পড়ে দিল্লির বিমানবন্দরে উন্মোচিত হওয়া জাতির জন্য বিব্রতকরও বটে।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট-এটি কেবল একটি যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না; এর নেপথ্যে কাজ করেছে দায়িত্বপ্রাপ্তদের চরম গাফিলতি ও নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা। তদন্তে উঠে এসেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দায়িত্বশীলদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ওই ব্যক্তি সাধারণ প্রটোকল এড়িয়ে অনিয়ম ও ‘অবৈধ প্রটোকলে’র সুযোগ পান। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, স্ক্রিনিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনিটরে নজর না রেখে যাত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত ছিলেন। পেশাগত দায়িত্ব বাদ দিয়ে ক্ষমতার দাপট বা ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার এ প্রবণতা কেবল অনিয়ম নয়, জাতীয় নিরাপত্তার সরাসরি লঙ্ঘন।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে-প্রভাবশালী কিংবা ভিআইপি, কারও জন্যই সিকিউরিটি প্রটোকল শিথিল করা যাবে না। কিন্তু আমাদের প্রধান বিমানবন্দরে ‘ব্যক্তি’র পরিচয় দেখে নিরাপত্তার নিয়ম যে প্রায়ই শিথিল করা হয়, এ ঘটনা তার একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সামান্যতম নিরাপত্তা শিথিলতার জের ধরে গোটা দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কঠোরতা নেমে আসতে পারে। ফলে এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীনতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তি মারাত্মক প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

বিমানবন্দর কোনো ব্যক্তিগত প্রটোকল প্রদর্শনের জায়গা নয়; এটি সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তার একটি স্পর্শকাতর কেন্দ্র। তাই এ ঘটনায় শুধু তদন্ত কমিটি গঠন আর কয়েকজন নিম্নপদস্থ কর্মীর বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নিয়ে দায় সারলে চলবে না। ঘটনার পেছনের প্রত্যেক ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ককে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ভিআইপি বা প্রটোকল সংস্কৃতির নামে সিকিউরিটি স্ক্যানিংয়ে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা জরুরি। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি সচল রাখার পাশাপাশি কর্মীদের পেশাদারত্ব ও সততা নিশ্চিত করতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে বিমানবন্দরে আর কোনো অনিয়মের ঘটনা না ঘটে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .