প্রতারণার ফাঁদ
স্বপ্ন এবার কম্বোডিয়ায়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এক ভয়াবহ প্রতারকচক্রের প্রতারণার খবর ছাপা হয়েছে গতকাল যুগান্তরে। লোকচক্ষুর অন্তরালে কত যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে চলেছে দেশে! খুলনার কয়েকজন তরুণ ও তাদের অভিভাবকরা এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন যে, খবরটি যারা পড়েছেন, তারা সমব্যথী হয়েছেন। ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বেতনের লোভনীয় চাকরির আশ্বাসে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এখন দিশেহারা। তাদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল কম্পিউটারসংশ্লিষ্ট চাকরির। দালালচক্র কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়ে তাদের তুলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্রের হাতে। এই চক্র আলোচ্য তরুণদের জিম্মি করে তাদের দিয়ে পার্নোগ্রাফি ও অন্যান্য অসামাজিক কাজে অংশ নিতে বাধ্য করেছে। চীনা ও থাই মাফিয়ারা বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও হোটেলে তাদের নিয়ে গিয়ে অনলাইনে সেক্সুয়াল চ্যাটিংসহ পর্নোগ্রাফিক কাজে বাধ্য করত। পাচারকারীদের স্ক্রিপ্ট ও নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করলে তাদের ওপর নেমে আসত অমানুষিক নির্যাতন। ইলেকট্রিক শকও দেওয়া হতো।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পাচারকারী জিহাদ ও তার স্ত্রী বেশকিছু দিন ধরেই এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী তরুণরা জমিজমা বিক্রি করে ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা তুলে দিয়েছে এই দম্পতির হাতে। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছামাত্রই তাদের স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে যায়।
দেশে শুধু এই চক্র নয়, আরও অনেক মানব পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। সারা দেশে তারা গড়ে তুলেছে প্রতারণার ফাঁদের নেটওয়ার্ক। বিশেষত গ্রামের সহজসরল যুবকরা উন্নত জীবনের আশায় ধরা দিচ্ছে ফাঁদে। ফাঁদে পড়া তরুণদের কারও কারও হচ্ছে সলিলসমাধি, কেউ বা জঙ্গলে অসহায় জীবনযাপন করছে, আবার কেউ বন্দিশালায় অমানবিক জীবনযাপন করে মুক্তির আশায় দিন গুনছে। তাদের কান্না, বেদনা, হাহাকার কারও কানে পৌঁছায় না। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলেই কেবল তারা ফিরতে পারবে দেশে। দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে আমরা জানি না। এটা তো তাদের দায়িত্বই যে, দেশের কোথায় কোথায় পাচারকারী চক্র সক্রিয়া রয়েছে, তা খুঁজে বের করা। অভিভাবক শ্রেণিই বা প্রতারকদের মিষ্টি কথায় ভুলছে কেন? প্রথমত, যে কোনো বেআইনি ও অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া দেওয়াও অপরাধ। দ্বিতীয়ত, কোনো প্রস্তাব যাচাই-বাছাই না করে তাতে রাজি হওয়া চরম বোকামি। আমাদের পরামর্শ থাকবে, কর্মহীন যুবক ও তাদের অভিভাবকরা যেন খুব সহজেই প্রতারকদের মিষ্টি কথায় মুগ্ধ না হন। আলোচ্য প্রতারকচক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে হবে দ্রুতই।
