সাশ্রয়ী পণ্যের ফাঁদ
টিসিবির তামাশা বন্ধ হোক
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং স্বল্প-আয়ের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা। কিন্তু অতিসম্প্রতি বরিশালে টিসিবির সরবরাহ করা পণ্য নিয়ে যে ধরনের অনিয়ম ও অভিযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা খুবই উদ্বেগের ও আশঙ্কাজনক। সাশ্রয়ী মূল্যের নামে টিসিবি অসচ্ছল মানুষকে খুবই নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য করছে, যা কার্যত গরিব মানুষের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা। প্রকাশিত সংবাদের তথ্যানুযায়ী, বরিশালের ফ্যামিলি কার্ডধারী গ্রাহকদের চাল, ডাল ও তেলের সঙ্গে নিম্নমানের অপরিচিত ব্র্যান্ডের গুঁড়া সাবান, বল সাবান এবং গায়ে মাখার সাবান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা বলছে-এসব সাবানে ফেনা হয় না, ময়লা পরিষ্কার হয় না, এমনকি ব্যবহারে হাতের চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরবরাহ করা পাম অয়েল জমাট বেঁধে যায় এবং রান্না করা তরকারির ওপর চর্বির আস্তর ভেসে ওঠে। আরও বিস্ময়কর হলো, দুই মাস ধরে চালের মতো প্রধান খাদ্যপণ্য সরবরাহ না থাকলেও নিয়মিত পাঠানো হচ্ছে এই অকার্যকর ও মানহীন সাবান ও ডিটারজেন্ট।
যে সংস্থার কাজ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানসম্মত পণ্য পৌঁছে দেওয়া, সেই সংস্থার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ওঠবে কেন? এখন প্রশ্ন ওঠে, টিসিবির মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? অপরিচিত বা নিম্নমানের পণ্য কীভাবে সরকারি বিতরণব্যবস্থায় ঢুকে পড়ল? আর কেন গ্রাহকদের এমন পণ্য নিতে বাধ্য করা হলো? মূল্যহীন ও মানহীন পণ্য ফেরত না নিয়ে ডিলারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ায় কোটি কোটি টাকার অবিক্রীত পণ্য জমে শেষ পর্যন্ত ডিলাররাও আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।
আমরা আহ্বান জানাই, অবিলম্বে টিসিবির পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি ও তদন্ত পরিচালনা করা হোক। জনগণের জন্য গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান জনগণের আস্থাই যদি হারায়, তবে তার অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে যেসব অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এসব অকার্যকর পণ্য কেনা হয়েছে, তার পেছনের দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। নিম্নমানের পণ্যের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়ে টিসিবিকে অবিলম্বে ভোজ্যতেল, চাল ও ডালের মতো জরুরি খাদ্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন ও গুণগত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
